শিরোনাম

কলকাতার অলঙ্কার ঐতিহ্যকে। বিশ্বজনীন করার উদ্যোগী শিল্পমহল

*

দিগদর্শন ওয়েব ডেস্ক: সম্রাট বাবর তাঁর আত্মজীবনী বাবরনামাতে লিখেছেন, সারা বিশ্ব থেকে রাশি রাশি স্বর্ণ বাংলা মুলুকে এসে হারিয়ে যায়। এদেশের মানুষের অদ্ভুত শখ হচ্ছে,স্বর্ণালংকার বানিয়ে তারপর ভবিষ্যতের বংশধরদের জন্য রেখে যাওয়া।

বিশ্বের ৮০ শতাংশ স্বর্ণশিল্পী বাংলাভাষী।: মৌর্য ও গুপ্ত যুগের স্বর্ণালংকার শিল্পের প্রচলন পাল সেন যুগ পেরিয়ে সুলতানী আমলে অর্থাৎ ১২০৫ সাল থেকে মুসলিম শিল্পরীতির প্রভাবে সোনার অলঙ্কার কারিগরদের প্রসার হয়। মেসোপটেমিয়ায় যে চুনি পান্না হীরের নেকলেসের চল শুরু হয় , মোঘল আমলে বাংলার ধনী বাঙালির ঘরেও স্থান পায়। প্রবল প্রচলন ব্রিটিশ আমলে বাবু কালচারের যুগে ।২০২৬ সালে একটি সমীক্ষায় ভারতে সোনার গয়নার পরিমাণ বলা হয়েছে ২৭ হাজার মেট্রিক টন। আর এক সমীক্ষা বলছে পরিমাণ ৩৪,৬০০ মেট্রিক টন। গৃহস্থের ঘরে ও মন্দিরে গচ্ছিত এই অলঙ্কার। রিজার্ভ ব্যাংকে গচ্ছিত ৮৮০ মেট্রিক টন।

অন্যদিকে প্রাকৃতিক হীরের গয়নার ভারতীয় বাজার মূল্য ৫০ হাজার কোটি টাকা থেকে ৭৮,৫০০ কোটি টাকা। সম্প্রতি ইন্ডিয়ান ন্যাচারাল ডায়মন্ড রিটেইলার্স অ্যালায়েন্স অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ড এবং জেম অ্যান্ড জুয়েলারি এক্সপোর্ট প্রমোশন কাউন্সিলের প্রতিনিধি ও সদস্যরা মিলিত হয়েছিলেন কলকাতার এক পাঁচতারা হোটেলে। আলোচনায় তিনটি বিষয় গুরুত্ব পায়। ক্রেতা সম্পর্ক সুদৃঢ় করা , শিল্পের মান ও উৎকর্ষতার দিকে নজর রাখা এবিং আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের অলঙ্কার শিল্পের প্রসার ঘটানোর।

রিটেল জুয়েলার সংগঠনের সহ প্রতিষ্ঠাতা শমিত ভট্ট বলেন, প্রাকৃতিক হীরের ব্যবহার ও জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির পাশাপাশি ভারতের খুচরো বাজারে এর উপস্থিতি আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ হীরে কি করে সোনা , প্ল্যাটিনাম ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর পরিপূরক ভূমিকা সম্পর্কে আলোচনা হয়। দুবাইয়ে আয়োজিত আগামী জেম গোল্ড প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে বিশ্বের ভারতীয় ও অভারতীয় ক্রেতাদের পৌঁছে যাওয়ার লক্ষ্যপূরণের এক প্রচেষ্টা প্রতিবার করা হয়।

আগামীদিনে সুষ্ঠ পরিকল্পনায় আধুনিক প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে হীরের অলঙ্কার নির্মাণ ও বাংলার কারিগর শিল্পীদের আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর করার ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *