বাঙালির ইতিহাস ও বহিরাগত তত্ত্ব

পর্ব:২৩৪

মুঘল সম্রাট মুহম্মদ শাহ পরাজিত হন পারস্যের সুলতান নাদির শাহের কাছে।

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায় : পারস্যের নেপোলিয়ন নাদির শাহ ভারতে পা রাখলেন ১৭৩৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি। হরিয়ানার কর্ণাল প্রদেশে। দিল্লি থেকে দূরত্ব মাত্র ১১০ মাইল। প্রবল যুদ্ধে মুহম্মদ শাহ বন্দী হন নাদের শাহের হাতে। সেই বছরেই মার্চ মাসের ১১ তারিখ দিল্লিতে এলেন নাদির শাহ। হাজার হাজার প্রতিরোধকারী দিল্লির সেনা ও জনতাকে কচুকাটা করেন। মুহম্মদ শাহ প্রাণভিক্ষা করে রাজকোষের চাবি তুলে দেন নাদির শাহের হাতে । পিতৃসূত্রে পাওয়া ময়ূর সিংহাসন, কোহিনুরসহ মোঘল সাম্রাজ্যের ২০০ বছরের সম্পদ নিয়ে নাদির শাহ ১৭৩৯ খ্রিস্টাব্দের মে মাসে পারস্যে ফিরে যান।

নাদির শাহ মোগল সাম্রাজ্য জয় করে ময়ূর সিংহাসন ও কোহিনুর লুঠ করে ফিরে যান।

এই মোঘল সাম্রাজ্যে ভাঙন ধরেছে, ইতিউতি বিদ্রোহ দেখা দিয়েছে । নাদির শাহ ভারত আক্রমণ করতে চলেছেন সব খবরই বাংলার নবাবের কাছে পৌঁছে যেত গুপ্তচর মারফত। বাংলার তৎকালীন নবাব সুজাউদ্দিন তখন অসুস্থ। নাদির শাহ দিল্লি দখল করে বাংলায় নজর দেবেন এমন আশঙ্কাই করেছিলেন নবাব সুজাউদ্দিন।

সুজাউদ্দিনের এই আশঙ্কাও যে কষ্টকল্পিত, এমনটাও বলা যায় না। আফছারিদ রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা সামরিক দক্ষ নাদির শাহ তখন বিশ্বে পরিচিত দ্বিতীয় নেপোলিয়ন ও দ্বিতীয় আলেকজান্ডার হিসেবে । যদিও তিনি ভারত জয় করে পারস্যে ফিরে যাওয়ার পর এক গুপ্ত বিদ্রোহে ১৭৪৭ সালের ২০ জুন নিহত হন।

বাংলার নবাব সুজাউদ্দিন আশঙ্কা করেছিলেন নাদির শাহ বাংলা আক্রমণ করতে পারেন।

নাদির শাহ তাঁর সুলতানী জীবনে আফগানিস্থান, ইরাক,উজবেকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, রাশিয়া , আর্মেনিয়া,আজারবাইজান ও ওমান দখল করেছিলেন। নিষ্ঠুরতায় তিনি ইতিহাসে স্থান পেয়েছেন প্রথম সারিতে। তাই বাংলার নবাব সুজাউদ্দিন নিজের পরিবারের নিরাপত্তার কারণে তাঁদের উড়িষ্যায় পাঠিয়ে দেন।সুজাউদ্দিনের ছিল তিন স্ত্রী। তিনি কেন শুধু তাঁর তৃতীয় স্ত্রী দুর্দানা বেগম ও তাঁর সন্তানদের নিরাপদ স্থানে পাঠালেন তার সঠিক কারণ জানা যায়নি। তবে কি তিনি এই তৃতীয় স্ত্রী ও তাঁর সন্তানদের প্রতি বেশি দুর্বল ছিলেন?( চলবে)

পরবর্তী পর্ব আগামী রবিবার ৯ আগস্ট,২০২৬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *