পর্ব:২৪৩


ঘসেটি বেগম ঢাকার মতিঝিল প্রাসাদে ছিলেন গৃহবন্দী।
সুজিৎ চট্টোপাধ্যায় : সিরাজের প্রধান শত্রুদের অন্যতম পিসিমা ঘসেটি বেগমের নিজের কোন সন্তান না থাকায় ছোটভাই ইকবামতদৌলাকে পালক পুত্র হিসেবে গ্রহণ করেন। কিন্তু অল্প বয়সে তার বসন্ত রোগে মৃত্যু হয়। এই ঘটনার অল্পদিনের মধ্যে ঘসেটি বেগমের স্বামীরও মৃত্যু হয়। স্বামীর প্রচুর সম্পত্তির দাবিদার হয়ে ঘসেটি বেগম ঢাকার মতিঝিলের প্রাসাদে বসবাস করছিলেন।

বৃদ্ধ বয়সে সন্তানহীনা ঘসেটি বেগম।
বৃদ্ধ নবাব আলীবর্দী তাঁর কন্যার পুত্র সিরাজকে মুর্শিদাবাদের নবাব ঘোষণা করায় ক্ষুণ্ন হন ঘসেটি বেগম। ঘসেটি চাইছিলেন তাঁর অনুগত দ্বিতীয় বোনের পুত্র শওকত জঙ্গকে যেন নবাব করা হয়। তাই আলীবর্দী খাঁ’র মৃত্যুর পর পিসিমা যেকোন মুহুর্তে বিপদের কারণ হতে পারে সন্দেহ থেকে সিরাজ পিসিমাকে মতিঝিলের প্রাসাদে বন্দী করে রাখেন। ঘসেটি বেগমের সম্পদ দেখাশোনার ভার ছিল মুন্সী মীরনজর আলীর। ঘসেটি বেগমের আসল নাম যে মেহেরুন্নিসা আগেই বলেছি।

ঘসেটি বেগমের কবর।
একসময় সিরাজ খবর পেলেন গোপনে বন্দী অবস্থায় ঘসেটি বেগম সিরাজের শত্রুদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন তখন তিনি সৈন্যবাহিনী নিয়ে ঢাকায় এসে ঘসেটি বেগমের প্রাসাদ অবরোধ করলেন। বিপদ বুঝে সম্পদ রক্ষক মুন্সী মীরনজর অধিকাংশ সম্পদ আত্মসাৎ করার সিদ্ধান্ত নিলেন। (চলবে)
