শিরোনাম

বাঙালির ইতিহাস ও বহিরাগত তত্ত্ব

পর্ব:২৪০

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায়: ইংরেজ জগৎ শেঠকে সরকারি ভাবে ব্যাংকার উপাধি দিয়েছিলেন।১৭১৪ খ্রিস্টাব্দে মানিকচাঁদের মৃত্যুতে ব্যবসার হাল ধরেন ফতেহ চাঁদ।১৭২৩ খ্রিস্টাব্দে দিল্লির সম্রাট মামমুদ শাহ ফতেহ শাহকে জগৎ শেঠ উপাধি দেন। জগৎ শেঠের ব্যবসা তখন মুর্শিদাবাদ ঢাকা , পাটনা , দিল্লিতে এমনকি লন্ডনের ব্যবসায়ীদের ব্যবসার অর্থ ঋণ দিতেন। শুধু তাই নয় , বাংলার জমিদাররা যখন বাংলার বা দিল্লির শাসকের বিষ নজরে পড়তেন তখন জগৎ শেঠ তাঁদের জামিনদারও হতেন।

বাংলার ব্যবসায়ী জগৎ শেঠের আয়ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের চেয়ে বেশি।

জগৎ শেঠের বার্ষিক আয়ব্যয়ের হিসেব ব্যাঙ্ক অফ ইংল্যান্ডকেও ছাপিয়ে যেত। ক্রমশ নবাবের রাজস্ব সংগ্রহের দায়িত্ব পালন করতেন। বাংলা বিহারের নবাবরাও দিল্লিতে রাজস্ব পাঠাতেন এই ফতেহচাঁদ ওরফে জগৎ শেঠ মুদ্রাও তৈরি করতেন। বিদেশ থেকে সোনা- রূপো আমদানিতেও প্রচুর লাভবান হতেন ভগৎ শেঠ।

ফতেহচাঁদের পৌত্র মাহতাবচাঁদ।

আমরা অবশ্য সিরাজের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার জন্য যে জগৎ শেঠকে চিনি তিনি কিন্তু এই ফতেহচাঁদ নন। আমরা যাকে চিনি এই ফতেহচাঁদের পৌত্র মাহতাব চাঁদকে।১৭৪৪ খ্রিস্টাব্দে বাংলার নবাব আলীবর্দী খান মাহতাবচাঁদকেও জগৎ শেঠ উপাধি দেন । উপাধি দেন তাঁর আরেক সম্পর্কের ভাই মহারাজা স্বরূপচাঁদকেও। কিন্তু সিরাজ মুর্শিদাবাদের নবাব হওয়ার পর তাঁর সঙ্গে এই দুইভাইয়ের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। কারণ এ অবশ্যই ছিল। কি সেই কারণ? (চলবে)

পরবর্তী পর্ব আগামী রবিবার ৩০ আগস্ট,২০২৬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *