বাঙালির ইতিহাস ও বহিরাগত তত্ত্ব

পর্ব:২৩৯

সিরাজউদদৌলা

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায় : ৮০ বছর বয়সে আলীবর্দী খাঁ যখন মারা যান তখন তাঁর কন্যা জামাতা জৈনুদ্দিন আহমদ ও কন্যা আমেনা বেগমের পুত্র মির্জা মুহম্মদ সিরাজদৌল্লাকে মুর্শিদাবাদের নবাব মনোনীত করে গিয়েছিলেন। সেই মত মাত্র ২৩ বছর বয়সে সিরাজ মুর্শিদাবাদের নবাবের সিংহাসনে আসীন হন।

সিরাজের শত্রু তালিকায় সবচেয়ে বিপদজ্জনক ছিলেন জগৎ শেঠ।

বাংলার ইতিহাসে আফসার বংশের শেষ নবাব সিরাজদৌল্লা বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব । কারো কাছে তিনি অকর্মণ্য চরিত্রহীন নবাব। কারও কাছে করুণার পাত্র। দেশপ্রেমিক। প্রিয়জনের বিশ্বাসঘাতকতার শিকার। সিরাজ মুর্শিদাবাদের সিংহাসনে বসেই বোঝেন তিনি দেশীয় ও বিদেশি শত্রু পরিবেষ্টিত হয়ে আছেন। সবচেয়ে বড় শত্রু মায়ের বড় বোন ঘসেটি বেগম। আসল নাম মেহেরুন্নেসা। আত্মীয়দের মধ্যে সিরাজের আর এক শত্রু ছিলেন খুড়তুতো ভাই শওকত জঙ্গ।শত্রুদের তালিকায় ছিলেন আলীবর্দী খাঁয়ের প্রধান সেনাপতি মীরজাফর আলী খান। মীরজাফর ছিলেন আলীবর্দী’র এক সৎ মায়ের ছেলে।

মীরজাফর কি সত্যিই বিশ্বাসঘাতক ছিলেন। রয়েছে বিতর্ক।

তবে শত্রুদের মধ্যে সবচেয়ে বিপদজনক ছিলেন ব্যবসায়ী জগৎ শেঠ। সিরাজ সম্পর্কে বলার আগে একবারই জগৎ শেঠকে চেনা দরকার। এই নামটি কিন্তু তাঁর পিতৃদত্ত নাম নয়। শেঠ শব্দের অর্থ বিত্তবান জগৎ মানে বিশ্ব অর্থাৎ বিশ্বের সেরা ধনী। নবাবদের কাছে উপাধি পেয়েছিলেন ফতেহ চাঁদ। সেই সময়ে জগৎ শেঠের মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১৪ কোটি টাকা। মোঘল ও ইংরেজদের সুদের টাকা ধার দিতেন। বলা যায় ব্যাংকার ছিলেন। (চলবে)

আগামী পর্ব , শনিবার,২৯ আগস্ট,২০২৬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *