পর্ব:২৪৬

মুর্শিদাবাদের নবাব আলীবর্দী খাঁ’র স্নেহের পৌত্র সিরাজ পরম স্নেহের হলেও সিরাজ তাঁর বিরুদ্ধেও যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন।
সুজিৎ চট্টোপাধ্যায় : সিরাজ বয়সে অল্প হলেও বিচক্ষণ। বুঝেছিলেন তাঁর পথের কাঁটা কে কে হতে পারে? তাই তাঁর খুনের তালিকায় ছিল ভাই হুসেনকুলি খান ও অন্যান্যরা। শোনা যায় একবার তো সিরাজ মাতামহ আলীবর্দী খাঁ’র বিরুদ্ধেও বিদ্রোহ ঘোষণা করেন কিছু অনুগত সেনাদের নিয়ে। উড়িষ্যা থেকে মাতামহকে চিঠি লিখে জানান, আপনি আমাকে অনেক আদর দিয়েছেন, কিন্তু কোন রাজ্য শাসনের একক অধিকার দেননি।সুতরাং আপনার সঙ্গে যুদ্ধ করে আমার অধিকার রক্ষা করা ছাড়া কোন পথ নেই। এরপরই বকিছুট সৈন্য নিয়ে পূর্নিয়ার দিকে এগোন।
আলীবর্দী নাতি সিরাজের এই ধৃষ্টতাকে শিশুসুলভ আচরণ মনে করার সিরাজকে চিঠি লেখেন ,তুমির মুর্শিদাবাদ ফিরে এসো।মুর্শিদাবাদের অধিকার তোমার হাতেই দেব। আলীবর্দী খাঁ সিরাজের অভিভাবক হিসেবে যাঁকে নির্বাচিত করেছিলেন সেই জানকীরামকে উড়িষ্যা ছেড়ে চলে যেতে বলেন। স্বাধীনচেতা সিরাজের কোনো অভিভাবক পছন্দ ছিল না। জানকীরাম ছিলেন আলীবর্দী খাঁয়ের অনুগত। তিনি জানালেন নবাবের কাছের তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাঁর অনুমতি ছাড়া তিনি উড়িষ্যা ত্যাগ করবেন না।

সিরাজ তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ভাই কেও হত্যা করেন।
সেই সময় জানকীরাম ছিলেন মগধে। সিরাজ মগধ আক্রমণ করলেন । সিরাজের সঙ্গী ছিলেন বিদ্রোহী পরামর্শদাতা মাধি নিম্পার খাঁ। জানকীরামের সেনার হাতে সিরাজের সঙ্গী নিহত হলে সিরাজের সেনারা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে। জানকী রাম সিরাজকে বন্দী করলেও তিনি জানতেন সিরাজ আলীবর্দী খাঁ -এর খুবই স্নেহের। তাই নাম কে ওয়াস্তে বন্দী করে সিরাজকে নজরবন্দী করে নৌকায় মুর্শিদাবাদ পাঠিয়ে দেন। (চলবে)
