পর্ব:২৫৫

সিরাজ
সুজিৎ চট্টোপাধ্যায়: নবাবের চরিত্রহীনতায় সমর্থনে কলকাতার কাশিমবাজারের ফরাসি বণিক জঁ ল লিখেছেন, চারিত্রিক বিচারে আমার দেখা নবাবের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ সিরাজ। গঙ্গার ঘাটে স্নানরতা পছন্দসই মেয়েদের নিজের বজরায় তুলে আনতেন। আবার অনেক সময় যাত্রীবাহী নৌকো ডুবিয়ে দিতেন। মৃত্যুভয়ে কতটা ডুবে যাওয়া নৌকার মানুষদের আর্ত চিৎকারে তিনি আনন্দ পেতেন।

সিরাজের চরিত্রহীনতার আর এক তথ্য লিপিবদ্ধ হয়েছে রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায়ের লেখা মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়স্য চরিত্রং গ্রন্থে। সেখানে বলা হয়েছে, সিরাজ তাঁর রাজত্বে সুন্দরী কন্যা দেখলেই তাঁকে হরণ করে নিয়ে যেতেন নিজের লালসা তৃপ্তির জন্য। গর্ভিনী নারীদের উদর চিরে দেখতেন মাতৃগর্ভে শিশু কেমন থাকে। এই ত্রাসের পরিণামে নগরের মানুষ মুর্শিদাবাদ ছেড়ে চলে যেতে শুরু করেন।

উইলিয়াম কেরি ও মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার।
শুধু রাজীবলোচন নন, তাঁর সমসাময়িক মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালংকারও তাঁর রচনাবলী গ্রন্থে একই কথা লিখে গেছেন।বাংলাদেশের ঐতিহাসিকদের বক্তব্য বা হিন্দু জমিদাররা ছিলেন এই বিকৃত তথ্য পরিবেশনের উৎসাহদাতা। কেননা বাংলার মুসলিম শাসন খতম করতে ইংরেজদের সহযোগিতা ও সিরাজের ঘরশত্রু বিভীষণদের দরকার। তাঁরা অবশ্য ভুলেও বোঝেননি ইংরেজের মানদণ্ড আসলে রাজদন্ডে বদলাতে চলছেন। (চলবে)
