পর্ব: ২৫৯

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায়: সম্ভবত বৈষ্ণব সাহেবধনী সম্প্রদায় কর্তাভজা সম্প্রদায়েরই একটি শাখা। শোনা যায়, নদীয়া জেলার কোন বনে কোন এক উদাসী ব্যক্তি এই সম্প্রদায়ের সৃষ্টি করেন। হিন্দু মুসলিম উভয়ের সংযোগে এই সম্প্রদায়ের সৃষ্টি । এই সম্প্রদায় কোনো বিগ্রহের পুজো করত না। বরং বিগ্রহ পুজো ও মন্ত্রদাতা গুরুত্ব বিরোধিতা করত। প্রতি বৃহস্পতিবার এদের উৎসব পালিত হত। এই প্রসঙ্গে লেখকদ্বয় সুরেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় ও রমলাদেবী লিখেছেন তাঁদের ভারতীয় সমাজে প্রান্ত বাসিনী গ্রন্থে যবনাদি নানা জাতি কর্তৃক প্রদত্ত পরমান্নাদি উপাসনা স্থানে ( একখানি চৌকি) নিবেদন করে পরষ্পরের মুখে অর্পিত হত।

বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলার অন্তর্গত সেরপুরে মুসলমানদের মধ্য়ে পাগলপন্থী সম্প্রদায় প্রতিষ্ঠিত হয়। এই ধর্মের মূলকথা এই যে, সকলেই ঈশ্বরসৃষ্ট, কেউ কারও অধীন নয়, উচ্চ-নীচ ভেদ অসঙ্গত। পাগলপন্থী গুরুরা অন্যান্য মুসলমানের মত লম্বা দাড়ি রাখে না, মোরগাদি পালন করে না।

অথর্ব বেদে পরকীয়ায় সমর্থন না থাকলেও এক নারীর বহু স্বামীর মান্যতা আছে।
আঠারো শতকের বাংলা ভাষায় লিখিত কতক শাস্ত্র গ্রন্থে পরকীয়া প্রেমের সমর্থনে তন্ত্র ছাড়াও অথর্ব বেদ এবং ছান্দোগ্যোপনিষদ- এর প্রমাণ লিখিত রয়েছে। অথর্ববেদে’র প্রমাণ এ বিষয়ে প্রাসঙ্গিক নয়। কারণ, এতে স্ত্রীলোকের সঙ্গে একাধিক প্রাক্তন স্বামীর মিলনের কথা আছে, পরপুরুষের নয়। সুতরাং এর দ্বারা পরকীয়া প্রেম প্রমাণিত হয় না। (চলবে)
