পর্ব:২৫৭

সিরাজ ও ইংরেজের বৈরিতার মোট আটটি কারণ ঐতিহাসিকেরা লিপিবদ্ধ করেছেন।
সুজিৎ চট্টোপাধ্যায়: ইতিমধ্যে ইংরেজদের সঙ্গে সিরাজের সম্পর্ক অবনতি ঘটছে। আগেই সিরাজ কলকাতা দখল করেন ইংরেজের হাত থেকে। কেননা ইংরেজের অনুমতি ছিল ব্যবসা করার। দুর্গ বানানো নয়। সিরাজের সঙ্গে ইংরেজের বিরোধের আরও কিছু কারণ ঐতিহাসিকেরা বর্ণনা করেছেন। ১) ১৭১৭ খ্রিস্টাব্দে তৎকালীন দিল্লির মোঘল বাদশাহ ফারুকশিয়ারের কাছ থেকে ইংরেজ বাংলায় ব্যবসার দস্তক পায়।অর্থাৎ ব্যবসায়ী অনুমতি।
যার ফলে বিনা শুল্কে কয়েকটি পণ্যের বাণিজ্যিক অনুমতি মেলে ইংরেজদের। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ক্ষমতার অপব্যবহার শুরু করায় মুর্শিদাবাদের নবাব সিরাজের রাজস্বের অনেক ক্ষতি হয়। সিরাজ আপত্তি জানান। ইংরেজরাও স্বার্থে ঘা লাগায় সিরাজের বিরুদ্ধে যায়।২) সিরাজ সিংহাসনে বসার পর থেকেই নিকটাত্মীয় ও কিছু রাজকর্মচারী তাঁর বিরুদ্ধে জোট বাঁধে। সিরাজ জানতেন এর পেছনে ইংরেজের মদত আছে। ৩) সিরাজ সিংহাসনে অভিষিক্ত হলে ফরাসি ও ওলন্দাজ ব্যবসায়ীরা নবাবকে খুশি করতে বহু উপহার ভেট দেন। কিন্তু ইংরেজ নিস্পৃহ থাকে। ৪) দক্ষিণ ভারতের বিরুদ্ধে অস্তিত্বরক্ষার সংকটে ইংরেজ ও ফরাসিদের বাংলায় দুর্গ নির্মাণ সিরাজ ভালো চোখে দেখেননি। তিনি দুর্গ তৈরি করতে নিষেধ করেন। ফরাসিরা সিরাজের আদেশ মেনে নিলেও ইংরেজ সিরাজের আদেশ অগ্রাহ্য করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সিরাজের ধৈর্যচ্যুতি ঘটে।

নবাব সিরাজের আপত্তি সত্ত্বেও ইংরেজ কলকাতায় গড়ে তোলে ফোর্ট উইলিয়াম দূর্গ।
৫) সিরাজের পিসি ছিলেন ঘসেটি বেগম। অল্পবয়সে তিনি স্বামীকে হারান। তাঁর গোপন প্রেম ছিল ঢাকার দেওয়ান রাজবল্লভের সঙ্গে। ঘসেটিও ছিলেন ঢাকার প্রাসাদে। সিরাজের সভায় রাজ বল্লভের বিরুদ্ধে আর্থিক তছরুপের অভিযোগ প্রমাণিত হয়। সিরাজ তাঁকে হিসাব দাখিল করতে বলেন। কিন্তু রাজবল্লভ সিরাজের আদেশ অমান্য করে বহু ধনরত্ন ও অর্থ নিয়ে পুত্র কৃষ্ণবল্লভ মারফত কলকাতায় বন্ধু ইংরেজদের হেফাজতে উইলিয়াম দুর্গে জমা রাখেন। (চলবে)
