বেশ্যার বারমাস্যা

পর্ব:২৬৫

বিল্বমঙ্গল নাটকের রচয়িতা গিরীশচন্দ্র ঘোষ।

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায় : বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের অধ্যাত্মবাদে নিজের স্ত্রী ছাড়ার পরস্ত্রীর প্রতি পরকীয়া শ্রেয় পরিগণিত হওয়ায় উনিশ শতকে কর্তাভজা প্রভৃতি সহজিয়া সম্প্রদায়ের উদ্ভব এবং কিশোরীভজন প্রভৃতি অনুষ্ঠান।

গিরীশ ঘোষ্ ১৮৪৪-১৯১২) প্রণীত বিল্বমঙ্গল বাংলা নাটকে দৃশ্য আছে যেখানেএক ধনীর দুলাল বিল্বমঙ্গল চিন্তামণি নামে এক বেশ্যর প্রতি এমন আকর্ষণ অনুভব করেন যে একরাত্রে প্রবল ঝড় জল উপেক্ষা করে নদী সাঁতরে চিন্তামণির গৃহে আসেন। চিন্তামণি তাঁকে বলে, এই গভীর প্রেম যদি তাঁর ঈশ্বরের প্রতি থাকত তাহলে কাজ দিত। বিল্বমঙ্গল চিন্তামণির কথায় ব্যথিত হলেও একসময় সেই কথার যথার্থতা অনুভব করায় চেতনার পরিবর্তন ঘটে। আসে চৈতন্য। বৈরাগ্য গৃহত্যাগ করে বৈষ্ণব ধর্মে দীক্ষিত হয়ে পথঘাট জঙ্গলে হা কৃষ্ণ হা কৃষ্ণ বলতে বলতে পাগলের মত ঘুরতে থাকেন।

বিল্বমঙ্গলই সম্ভবত কৃষ্ণকর্ণামৃত নামে ভক্তিমূলক সংস্কৃত কাব্যের লীলাশুক বিল্বমঙ্গল। ভারতীয় বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ তাঁকে নিজের অঞ্চলের বলে দাবি করেন। নানা কিংবদন্তিও ছড়িয়ে আছে দেশজুড়ে।তন্ত্র সময়কাল যদিও এখনও নির্দিষ্ট হয়নি। ধারণা তিনি ছিলেন খ্রিস্টীয় নবম থেকে পঞ্চদশ শতকের মানুষ।

এই গ্রন্থের রচয়িতা বিল্বমঙ্গল।

ভারতে আসার প্রথম পর্বে ব্যবসায়ী ইংরেজরা স্ত্রী আনতেন না।অধিকাংশই ছিলেন অবিবাহিত। জীবিকার দায়ে বলা যায় সেযুগের পরিযায়ী। ইংরেজ কন্যার বাবারা ভারতের মত ভূতপ্রেত, কালাজ্বর, ও গাছে থাকার বুনোর লোকের দেশে যাওয়া কোন ছেলের হাতে জেনেশুনে মেয়ে দিতে রাজি হতেন না।ফলে ভারতে এসে রক্ষিতা বা উপপত্নী রাখত। কোন বিবাদ হলে ঘুষ দিয়ে সেই বিবাদ রুখত। প্রধান নিদর্শন জব চার্ণক। তিনি ভারতে প্রথম আসেন ১৬৫৫/৫৬ খ্রিস্টাব্দে। রাধারমন মিত্র তাঁর কলিকাতা দর্পণ গ্রন্থের উইলিয়াম হেডোডায়েরি থেকে সেই তথ্য উদ্ধার করেছেন। (চলবে)

পরবর্তী পর্ব ১ নভেম্বর,২০২৬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *