বাঙালির ইতিহাস ও বহিরাগত তত্ত্ব

পর্ব: ২৫১

সিরাজের বিশ্বস্ত সেনাপতি মোহনলাল।

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায় : সিরাজের বিশ্বস্ত সেনাপতিদের তালিকায় যেমন ছিলেন মানিকচাঁদ, তেমন ছিলেন মীরমদন, খাজা হাজী এবং মোহনলাল। পলাশীর যুদ্ধের আগে এক অপরাধীর জন্য মীরজাফরকে তাঁর পদ থেকে বহিস্কার করেছিলেন । পরে অবশ্য ক্ষমাও করার দেন। এটাই বড় ভুল ছিল সিরাজের। সিরাজ তিন অনুগত সেনাপতিসিরাজকে সাবধান করে বলেছিলেন , এই ভুল না করতে কিন্তু শুভানুধ্যায়ী এই তিন সেনাপতির মন্ত্রণা অগ্রাহ্য করার ফল হাতে হাতের পেয়েছিলেন সিরাজ।

সিরাজের আর এক বিশ্বস্ত সেনাপতি মীরমদন

তবু এই ঘটনা বিশ্লেষণ করা দরকার। তার আগে সিরাজের তৃতীয় প্রেমের ঘটনা জানা দরকার। সেনাপতি মোহনলাল ছিলেন কাশ্মীরি কায়স্থ। সিরাজ নবাব হতেই প্রথম যে দুজনকে সঙ্গী করেন তাঁরা হলেন মীরমদন ও মোহনলাল। ফরাসি দূত মশিয়ে মঁশিয়ে ল তাঁর স্মৃতিকথায় লিখেছেন, সিরাজের শত্রুরা নাকি একবার বিষ প্রয়োগ করে মেরে ফেলার চেষ্টা করে।১৭৪৭ খ্রিস্টাব্দে পলাশীর যুদ্ধে মীরমদন নিহত হলেও একা কুম্ভ রক্ষার ভার নেন মোহনলাল।

এই মোহনলালের এক সুন্দরী সহোদরা ছিলেন মাধবী। তাঁর রূপের প্লাবন এমন ছিল জে তাঁকে মুর্শিদাবাদের মানুষ বলতেন হীরা। এই হীরা নামটি নাকি সিরাজেরই দেওয়া।২৩ বছরের বয়সে সিরাজ সিংহাসনে বসেন কিন্তু হীরাকে আগেই বিয়ে করেছিলেন সিরাজ গোপনে। বিষয়টি জানতেন না দাদু আলীবর্দী খান। সিরাজের ঔরসে হীরার এক পুত্র সন্তানও হয়। সে খবরও ছিল গোপন।

সিরাজ গোপনে বিয়ে করেন হিন্দু সেনাপতি মোহনলালের বোন হীরাকে।

সিরাজ জানতেন মায়ের দাসী রোজ ওরফে লুৎফা কে মেনে নিলেও হীরাকে মানতে রাজি হননি আলীবর্দী। ফলে সিংহাসন হাতছাড়া হওয়ার উপক্রম। ঐতিহাসিক সূত্র বলছে , সিরাজ ও এক চরম অমানবিক কান্ড করে বসেন। জে কোন পিতার জন্য যা কলঙ্কময় ইতিহাস। হীরার গর্ভজাত সন্তানকে এক ঘোড়ার পিঠে বসিয়ে সেই ঘোড়াকে তিরবিদ্ধ করে ছুটিয়ে দেন। (চলবে)

পরবর্তী পর্ব আগামী শনিবার,১০ অক্টোবর ,২০২৬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *