পর্ব:২৫৮

গৌরবাদী বৈষ্ণব।
সুজিৎ চট্টোপাধ্যায় : গৌরবাদী বৈষ্ণবদের অনেকেই গৃহস্থ। কেউ উদাসীন। উদাসীন যারা তারা বিয়ে করে না। ইন্দ্রিয় ভোগ থেকে বিরত থাকে। এই সম্প্রদায়ে বিগ্রহ সেবার প্রচলন নেই।১২৫৭ বঙ্গাব্দে ( ১৮৫১ খ্রিষ্টাব্দ) বলরামের তিরোধানের পর ব্রহ্মমালোনী নামে এক মহিলা গুরুর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। হজরত, গোবরা ও পাগলনাথ নামে তিনজন মুসলমান কর্তাভজা সম্প্রদায় সদৃশ তিনটি সম্প্রদায় প্রবর্তিত করেন।

কর্তাভজা সম্প্রদায়
তিলক দাস নামে সদগোপ কর্তাভজা সম্প্রদায় ছেড়ে তিলক দাসী সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠা করেন। শান্তিপুর নিবাসী দর্পনারায়ণ মুচি ছিলেন একটি সম্প্রদায়ের প্রবর্তক। বৈষ্ণবদের আরও দুটি শাখার নাম কিশোরী ভজনী এবং জগম্মোহিনী। এদের নাম থেকেই এইরূপ সাধনার মহিলাদের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত হয়।

বাংলার বাউল সম্প্রদায়
বৈষ্ণবদের এই আউল, বাউল , সাঁই, দরবেশ, নেড়া এসব সম্প্রদায়ের মানুষজন সহজিয়া নামে পরিচিত। কারও কারও মতে, কর্তাভজা, স্পষ্টদায়ক, সখী ভাবক, কিশোরী ভজনী, রামবল্লভী, জগম্মোহিনী, গৌরবাদী, সাহেবধনী , পাগলনামী, গোবরাই ইত্যাদি সহজিয়া সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত। এই সম্প্রদায়গুলির মত ও পথ ভিন্ন ভিন্ন হলেও স্ত্রী পুরুষের অবাধ মিলন , পরকীয়া প্রেম, উৎসবে স্ত্রীদের স্বাধীনতা প্রভৃতি বিষয়ে একটার ঐক্য দেখা যায়। (চলবে)
