বেশ্যার বারমাস্যা

পর্ব: ২৫৬

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায় : কর্তাভজা সম্প্রদায়ের আচরণ সম্পর্কে ১৮৬৩ সালে সোমপ্রকাশ পত্রিকায় এক প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য ছাপা হয়েছিল। পত্রিকায় লেখা হয়েছে স্ত্রীলোকেরা এক কর্তার অনুরোধে বহুসংখ্যক অপরিচিত পুরুষের সহিত একত্রে বসিয়া আমোদ করিতে লজ্জিত হইতেছে না। এক একটি পুরুষের নিকট গড়ে ৪/৫ জন যুবতী বিনোদনসঙ্গিনী বসিয়া আছে।

সুরেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় ও রমলাদেবী তাঁদের ভারতীয় সমাজে প্রান্তবাসিনী গ্রন্থের ২৮৩ পৃষ্ঠায় লিখেছেন, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে হুগলীর নিকটস্থ বাঁশবেড়িয়া গ্রামে রামবল্লভী সম্প্রদায় প্রতিষ্ঠিত হয়। এই সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্য ছিল সর্বধর্মের সমন্বয়।
১৮৮১ সালের ৩১ শে মে তারিখে রামমোহন রায়ের জীবনী লেখিকা মিস্ কলেটের কাছে রাজনারায়ণ বসু মহাশয়ের লেখা চিঠি থেকে এই সম্প্রদায় সম্বন্ধে নিম্নলিখিত তথ্যাবলী পাওয়া যায়।

এই সম্প্রদায়ের লোকেদের বার্ষিক সভায় হিন্দু পদ্ধতিতে দেবতার নিকট ভোজ্য নিবেদনের অনুকরণে কৃষ্ণ , খ্রিস্ট, ও মহম্মদকে গোমাংস এবং খৃষ্টকে গোমাংস ও শূকর মাংস দেওয়া হয়। এই উপলক্ষে পঠিত স্তত্রের মর্ম এই যে কালী, কৃষ্ণ , খোদা এই সকলই ভগবান্; এঁদের মধ্যে কোন ভেদ মনে স্থান দেওয়া উচিত নয়। (চলবে)

আগামী পর্ব শুক্রবার ২ অক্টোবর,২০২৬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *