পর্ব:২৩৮

নবাব আলীবর্দী খাঁ।
সুজিৎ চট্টোপাধ্যায় : আলীবর্দী খাঁ বিদ্রোহ দমন করলেও একই সময়ে ব্রিটিশ বণিকেরা আধিপত্য বিস্তার করতে দেশীয় ও ইউরোপীয় অন্য বণিকদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়তে থাকে। বাংলায় তখন ঘোর অরাজকতা। আলীবর্দী খাঁ ১৭৪৫ খ্রিস্টাব্দে এক আইন জারি করে বিদেশি বণিকদের তার রাজ্যে অশান্তি করতে বারণ করেন। ব্রিটিশ বণিকেরা ইতিমধ্যে কিছু আর্মেনীয় ও মোঘল জাহাজ দখল করে নেয় ।

আলীবর্দী খাঁয়ের সময় কলকাতার দখল ছিল রিচার্ড বারওয়েলের হাতে।
আলীবর্দী খাঁ কলকাতার ইংরেজ শাসনকর্তা বারওয়েল সাহেবকে জাহাজগুলি মুক্ত করে দিতে বলেন। কিন্তু ব্রিটিশ বণিকেরা সেকথা অমান্য করায় ইংরেজ বণিকদের ব্যবসা করার অনুমতি রোধ করেন। নিরুপায় হয়ে ব্রিটিশ বণিকেরা জাহাজগুলি ছেড়ে দেয় এবং ক্ষতিপূরণ বাবদ দেড় লক্ষ টাকা দিতে বাধ্য হয়। আলীবর্দী খাঁও ইংরেজকে আবার ব্রিটিশ কে ফিরিয়ে দেন।

মুর্শিদাবাদে খোশবাগে রক্ষিত আলীবর্দী খাঁয়ের কবর।
আলীবর্দী খাঁ কিন্তু মানুষ হিসেবে উদার ছিলেন। তাঁর সভায় বহু হিন্দু উচ্চপদে আসীন ছিলেন। বাংলার অরাজক অবস্থা কাটিয়ে সুস্থিরতা ফিরিয়ে তিনি কৃষি, শিল্প, ও বাণিজ্যে দ্রুত উন্নতি সাধন করেন। বাংলা আবার জগৎসভায় ঐতিহ্য ফিরে পায়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আলীবর্দী খাঁয়ের স্বাস্থ্য ভাঙতে থাকে।১৭৪৬ খ্রিস্টাব্দে ১০ এপ্রিল মুর্শিদাবাদে তিনি প্রয়াত হন। তাঁর সমাধি আছে মুর্শিদাবাদের খোশবাগে। (চলবে)
