পর্ব : ২৫৪

বাংলার বাউল সম্প্রদায়।
সুজিৎ চট্টোপাধ্যায় : আউল বাউল সম্প্রদায়ের কাছে গুরু মুর্শিদ ছিলেন সাক্ষাৎ ভগবান। এদের সাধনার লক্ষ্য প্রেমের মাধ্যমে মনের মানুষের সঙ্গে ঐকাত্মা স্থাপন। এই মানুষ অনন্ত পরম সত্য এবং ব্যক্তিগত প্রেমের আধার। তন্ত্রমতের অনুসরণ করে এরাও দেহভাণ্ডে ব্রহ্মান্ড তত্ত্ব বিশ্বাস করে।

বাউলদের দেহতত্ত্বের মধ্যে সাধনা।
সুরেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় ও রমলাদেবী তাঁদের ভারতীয় সমাজের প্রান্তবাসিনী গ্রন্থের ২৮২ নং পৃষ্ঠায় লিখেছেন, বাউলদের সাধনা নরনারীর মিথুনাত্মক। এই মিলন ক্ষণিক কামক্রীড়া নয়, স্থায়ী প্রেমলীলা; এর ফল মিথুনানন্দলাভ। কিন্তু তারা বিশ্বাস করে যে, কামকেলিকে বাদ দিয়ে প্রেমলীলায় পৌঁছানো অসম্ভব; কাম ও প্রেম নীরক্ষীরবৎ ওতপ্রোতভাবে মিশ্রিত।

বাংলার কর্তাভজা সম্প্রদায়।
বাউল সাধনার প্রেরণা দিয়েছিল সম্ভবত তান্ত্রিক বৌদ্ধ ধর্মের সহজযান শাখা; এর একটি শাখায় মিথুনাত্মক যোগ সাধনা স্বীকৃত। সাঁই শব্দটিএসেছে সংস্কৃত স্বামী শব্দ থেকে। মরমিয়া সাধকদের ব্যবহারে গুরু বা ঈশ্বরকে বলা হয় সাঁই।
লেখকদ্বয় আরও লিখেছেন, নিম্নশ্রেণীর স্ত্রীলোক প্রধান এক সাধক গোষ্ঠীর নাম ছিল কর্তাভজা; কর্তা অর্থাৎ ঈশ্বর বা মূল গুরুকে যাঁরা ভজনা করেন। বৈষ্ণব অধ্যাত্মবাদ সাধনার সঙ্গে এদের সাধন পদ্ধতির কিছু সাদৃশ্য থাকলেও এঁরা ছিলেন স্বতন্ত্র শ্রেণীর। অষ্টাদশ শতকে কলকাতা ও তার উপকণ্ঠে এঁদের প্রধান পীঠস্থান কাঁচড়াপাড়ার ঘোষপাড়া। এই সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠা করেন আউলচাঁদ নামের জনৈক সাধক। যাঁর মৃত্যু আনুমানিক ১৭৬৯ খ্রিষ্টাব্দ। (চলবে)
