পর্ব:২৪৮

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায় : ব্রিটিশ বণিকদের কলকাতা দুর্গ তৈরির উদ্যোগেই সন্দেহ হয়েছিল সিরাজের। তিনি বোধ হয় আন্দাজ করেছিলেন বণিকের মানদণ্ড হয়ে উঠতে পারে রাজদণ্ড। ফলে তিনি তড়িঘড়ি কলকাতার ফোর্ট উইলিয়াম আক্রমণ করেন। দুর্গের ব্রিটিশ সেনা ও ব্রিটিশ কোম্পানির ইংরেজরা কলকাতা ছেড়ে ২৪ পরগনার ফলতা পালিয়ে যান।১৭১৩ খ্রিস্টাব্দে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কোর্ট অফ ডাইরেক্টরস এর একজনের মন্তব্য ছিল ফোর্ট উইলিয়াম স্থাপত্যে নন্দনীয় হলেও সুরক্ষার প্রাচীর মজবুত ছিল না।৩০ হাজার সৈন্য নিয়ে দুর্গ দখল করে সিরাজ চেয়েছিলেন দুর্গের গভর্নর ও সেনাপতিকে বন্দী করতে।

ফোর্ট উইলিয়ামের গভর্নর ডাঃ হলওয়েল আত্মসমর্পণ করেন।
নবাবের বাহিনী ১৭৫৬ সালে ১৬ জুন দুর্গ অবরোধ করেন।১৯ জুন সেনাপতি ড্রেক পালিয়ে যান। গভর্নর হলওয়েল মাত্র ১৭০ জন ইংরেজ ও পর্তুগিজ সেনা নিয়ে সিরাজকে প্রতিরোধ করার চেষ্টা চালান। ওলন্দাজ সেনারা বিপদ বুঝে গঙ্গার প্রান্তের গোপন তোরণ খুলে জীবন বাঁচাতে নবাব সেনার পক্ষে যোগ দেন। বেশ কিছু ইংরেজ সেনা মারা যান। সিরাজের কামানের গোলায় দুর্গ পতন হয়। ব্রিটিশ সেনাপ্রধান হলওয়েল আত্মসমর্পণ করেন।

ঢাকা বিক্রমপুরের রাজা রাজবল্লভ ছিলেন সিরাজের বিশ্বাসঘাতকদের অন্যতম।
সিরাজ কলকাতার নতুন নামকরণ করেন আলীনগর। দুর্গে প্রবেশ করে দরবার বসান। আজও কলকাতার একটি অংশের নাম আলীপুর। আলী শব্দের অর্থ জমির বাঁধ। বাংলায় যা আল। আলী থেকে আল। সিরাজ দরবারে তাঁর সভাসদ উমিচাঁদ ও কৃষ্ণবল্লভকে উপস্থিত হওয়ার আদেশ দেন। কারণ কলকাতায় এসে সিরাজ জানতে পারেন রাজবল্লভ পুত্র কৃষ্ণবল্লভ আদায়কৃত রাজস্ব ও প্রচুর ধনরত্ন নিয়ে গঙ্গাস্নানের নামে কলকাতায় এসে ফোর্ট উইলিয়ামে এসে বন্ধু ইংরেজের কাছে জমা রাখেন। বিপদ আঁচ করে কৃষ্ণবল্লভ আর কলকাতায় এসে সিরাজের দরবারে হাজির হননি। (চলবে)
