শিরোনাম

বেশ্যার বারমাস্যা

পর্ব:২৪৭

১৮ ও ১৯শতাব্দীতে বাংলার বালবিধবার অবস্থা ছিল বড়ই করুণ।

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায় : সম্বাদ ভাস্কর পত্রিকায় প্রকাশিত নিবন্ধে বাংলার এক হতভাগ্য যুবতীর কুলীন পরিবার থেকে বারাঙ্গনা হওয়ার করুণ কাহিনী বর্ণনা যেমন দুঃখজনক তেমন জানা যায় , দ্বাদশবর্ষীয়াবাল বিধবার বিয়ের অল্পকালের মধ্যেই পতিবিয়োগ হয়। বৃদ্ধ শ্বশুরের একমাত্র রোজগার পৌরহিত্য। অর্থকষ্টেই দিন কাটত। শ্বশুর শাশুড়ির অভিযোগ ছিল , পুত্রবধূ চুরি করা অর্থ লুকিয়ে রাখে। অতিষ্ঠ হয়েই সেই বালবিধবা সিদ্ধান্ত নেয়, এক বাগদি নারীর সহায়তায় মামার বাড়ি চলে যাবে। যথারীতি একদিন সে বাড়ি ছাড়ে।

শ্বশুরবাড়ি থেকে বিতাড়িত হয়ে বালবিধবাদের ঠাঁই হতো নিষিদ্ধপল্লীতে।

কিন্তু পথে সেই বাগদি নারী পাঁচ টাকার বিনিময়ে তাকে এক পতিতালয়ে বিক্রি করে দেয়। সম্বাদ ভাস্কর পত্রিকায় সাংবাদিকরা ক্রেতাকে পাঁচ টাকা ফিরিয়ে মেয়েটিকে মুক্ত করেন। এরপর ঘটে এক যুগান্তকারী ঘটনা।সাংবাদিকেরা সেই শ্বশুরকে তাঁর যজমানির একটা অংশ বিধবা পুত্রবধূকে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি আদায় করে মেয়েটিকে শ্বশুরবাড়ি পাঠিয়ে দেয়। সেযুগে পতিতালয় থেকে একটি মেয়েকে শ্বশুর বাড়িতে ফিরিয়ে দেওয়া সহজ কাজ ছিল না।

১৮ ও ১৯ শতকে বাঙালি বাবুদের উপপত্নী থাকা ছিল সম্মানের।

ভারতীয় সমাজে প্রান্তবাসিনী গ্রন্থের ২৭৮ পৃষ্ঠায় সুরেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় ও রমলাদেবী লিখেছেন, পুরুষেরা স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও উপপত্নী- সম্ভোগ করবেন , অথচ স্ত্রীলোক উপপতি গ্রহণ করলে কুলটা বলে অভিহিত হবেন -এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন এক শ্রেণীর মহিলারা। এই খবরটিও প্রকাশিত হয়েছিল সমাচার দর্পণ পত্রিকায় ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দে ১৪ ই মার্চ। (চলবে)

পরবর্তী পর্ব , আগামী সোমবার ৩১ আগস্ট,২০২৬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *