পর্ব: ২৩৭

বৃদ্ধ বয়সে আলীবর্দী খাঁ।
সুজিৎ চট্টোপাধ্যায়: ১৭৪১ থেকে টানা ১০ বছর মারাঠারা বাংলা আক্রমণ করতে থাকে ধারাবাহিকভাবে। প্রত্যেকবার আলীবর্দী খাঁ মারাঠা আক্রমণ প্রতিহত করেন। কিন্তু একনাগাড়ে দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধে ক্লান্তি, বয়সের ভার সর্বোপরি সেনাপতিদের বিশ্বাসঘাতকতায় বাংলা থেকে মারাঠাদের হটিয়ে দিলেও উড়িষ্যা তাঁর হাত থেকে বেরিয়ে যায়।

বাংলায় মারাঠা বর্গীদের আক্রমণ।
মারাঠারাও একসময় বোঝে সন্ধি করে নেওয়াটাই হবে বিচক্ষণতার কাজ। সেইমত ১৭৫১ খ্রিষ্টাব্দে সন্ধি চুক্তি সাক্ষরিত হয়। বিনিময়ে উড়িষ্যা থেকে আর বাংলার মেদিনীপুর থেকে সরফরাজ তাঁর দাবি প্রত্যাহার করে নেন। মারাঠারা বাংলায় তখন বর্গী দস্যু হিসেবে মানুষের কাছে পরিচিত। বাংলা ও বিহার রক্ষা করতে আলীবর্দী খাঁ চৌথ কর দিতে বাধ্য হন মারাঠা যুদ্ধে ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়েন আলীবর্দী খাঁ। সেই সুযোগ নিতে তৎপর হয়ে ওঠেন তাঁর আফগান সেনাপতি গোলাম মোস্তফা খান।ফিনির আলীবর্দী খাঁয়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে বসেন। নজর নবাব সিংহাসন।

বাংলায় বর্গী মারাঠাদের আক্রমণের নায়ক রঘুজী ভোঁসলে।
বিহার ও মুর্শিদাবাদ দখলের জন্য ১৭৪৫ খ্রিস্টাব্দে ৩০ জন সৈন্য নিয়ে বিহারের ভোজপুর আক্রমণ করে বসেন গোলাম মোস্তফা। কিন্তু ভাগ্য ছিল বিরূপ বিহারের শাসনকর্তা বি জইনউদ্দিন আহমদের কাছে পরাজিত ও খুন হন। এরপর মারাঠাদের সহযোগিতায় দুই আফগান সেনাপতি সমশের খান ও সর্দার খান বিদ্রোহ করে বিহারের শাসনকর্তা জইনুদ্দিন খাঁকে হত্যা করে তাঁর স্ত্রী পুত্রদের বন্দী করেন ।এদিকে মীর হাবিব মারাঠাদের পক্ষে যোগ দেওয়ায় আবার যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়। আলীবর্দী খাঁ ১৭৪৮ খ্রিস্টাব্দের ১৬ এপ্রিল বিদ্রোহ দমন করেন। (চলবে)
