বাঙালির ইতিহাস ও বহিরাগত তত্ত্ব

পর্ব:২৩৬

সরফরাজ খান।

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায়: সরফরাজ খান। আসল নাম মির্জা আসাদুল্লাহ। উপাধি নেন আলাউদ্দিন হায়দার জং। সরফরাজের রাজত্ব কিন্তু নিষ্কণ্টক ছিল না। প্রতিপক্ষ ছিলেন আলীবর্দী খাঁ। তাঁর বয়স তখন ৭০। অথচ শৌর্য ও বীর্যে যে কোন তরুণ যোদ্ধার সমকক্ষ। সরফরাজের দুর্বলতাগুলি আলীবর্দী ষড়যন্ত্র করেন হাজী আহমদকে প্রলোভন দেখিয়ে। সরফরাজ জানতে পেরে হাজী আহমদকে বরখাস্ত করেন। কিন্তু এতে হাজী আরও ক্ষেপে তাঁর ছোটভাই বিহারের নায়েব বি জমিজমাকে কাজে লাগান নতুন ষড়যন্ত্রে।

আলীবর্দী খাঁ।

একটা সময় আলমচাঁদ ও জগৎ শেঠও সরফরাজ খানের বিরুদ্ধে চলে যান। দিল্লির দুর্বলতায় আলীবর্দী মোঘল সম্রাটের বিরুদ্ধে চলে যান এ দিল্লির দুর্বলতায় আলীবর্দী মোঘল সম্রাটের স্বীকৃতি নিয়ে সরফরাজের বি বিরুদ্ধে বি যুদ্ধযাত্রা করেন। নাদির শাহের বি ইচ্ছেতেই আলীবর্দী খান বি আরও উৎসাহিত হন। অথচ সরফরাজ আলীবর্দীকে বিহারের শাসনকর্তা বানিয়েছিলেন এম বাংলার সিংহাসনেরলোভে আলীবর্দী ১৭৪০ খ্রিস্টাব্দের বি ৯ এপ্রিল সিরিয়ার প্রান্তরে বধ করে বাংলার সিংহাসন দখল করেন।

সরফরাজ খানের জামাই মুর্শিদকুলি খাঁ।

আলীবর্দী খাঁও বাংলার নবাব হয়ে বি সুস্থির। সময় কাটাতে পারেননি। দেশীয় আফগান ও মারাঠাদের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত লড়তে হয়েছে। সেই সময়ে উড়িষ্যার শাসক ছিলেন বি সরফরাজের জামাই বি দ্বিতীয় মুর্শিদকুলি খান। শ্বশুরের মৃত্যুতে তিনি মর্মাহত হয়ে আলীবর্দীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। কিন্তু যুদ্ধে পরাজিত হয়ে বিতাড়িত হন উড়িষ্যা থেকে। প্রথমে আশ্রয় নেন হায়দরাবাদের নিজামের কাছে। পরে নাগপুরের মারাঠা রাজা রঘুজী ভোঁসলের কাছে। রঘুজী আশ্রিত অতিথিকে ফিরিয়ে দিতে শত্রুর শত্রু আমার মিত্র নীতি গ্রহণ করেন। বাংলা আক্রমণ করে উড়িষ্যা দখল নেন। ১৭৪১ খ্রিষ্টাব্দে আলীবর্দী খাঁ আবার উড়িষ্যা দখল করেন। মারাঠাদের নজরে পড়ে বাংলা। (চলবে)

পরবর্তী পর্ব আগামী রবিবার ,১৬ আগস্ট,২০২৬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *