পর্ব:২৪৩

১৯; শতকের শেষে কলকাতার বেশ্যাপল্লী।
সুজিৎ চট্টোপাধ্যায় : ১৮৪৫ সালের তত্ত্ববোধিনী পত্রিকায় সমাজের কলুষকালিমার যে চিত্র ফুটে ওঠে , সেখানে লেখা হয় , পিতার রক্ষিতা গণিকার গৃহে অতি বালক পুত্রাদি সম্বন্ধে গমনাগমন করিতেছে। তথায় তাহারা পরিপাটী রূপে লম্পট ব্যবহার শিক্ষা করিয়া বয়স্ক হইলে কণ্টকস্বরূপ যে তাহাদিগের পরিবারের পীড়াদায়ক হইবেক।

এই গ্রন্থে বাংলায় পিতার রক্ষিতার কাছে পুত্র যৌনতার প্রয়োজনে যেত তার উল্লেখ আছে।
অধুনা লম্পট বিদ্যা শিক্ষার পাঠশালা স্বরূপ কলিকাতা হইয়াছে। ভোলানাথ মুখোপাধ্যায় মহাশয়ের আপনার মুখ আপুনি দেখ গ্রন্থে একই সমাজচিত্র দেখা যায়। বিমাতা বিবাহের কুখ্যাতি কুলীন সমাজে অনেক আগে থেকেই ছিল। বহুকূল পঞ্জিতেও ঘটকের সরস কারিকায় তার বর্ণনা আছে। এই তথ্য উল্লেখ আছে বিনয় ঘোষের বিদ্যাসাগর ও বাঙালি সমাজ গ্রন্থের ৪১৮ পৃষ্ঠায়।

সম্বাদ কৌমুদী পত্রিকা
১৮১৩ সম্বাদ কৌমুদীতে নাম গোপন করে অমুকি পরিচয়ে এক কুলীন কন্যা কি করে পতিতায় পরিণত হন তার করুণ কাহিনী জানিয়েছেন। এই তথ্যও উল্লেখিত আছে চিত্রা দেবের অন্তঃপুরের আত্মকথা গ্রন্থের ৭ পৃষ্ঠায়। মেয়েটির পিতৃদেবের স্ত্রীর সংখ্যা ছিল চল্লিশ। তবু অমুকীর মাতামহ পাঁচটি মেয়েকে একেবারে তাঁকে সম্প্রদান করেন। পিতৃমুখ তাঁর কোনোদিন দর্শন হয়নি। কিন্তু, আমুকীর যখন দশ বছর বয়স সৎভাই ও সৎমারা অন্য গ্রাম থেকে এসে দুই মাসীর দুই মেয়ে ও অমুকীকে তাদের মায়ের অজ্ঞাতে তাদের অসম্মতি সত্ত্বেও পিতার জ্যেষ্ঠ তাতের তুল্য বয়স্ক এক পাত্র এনে তার সঙ্গে একরাত্রে সকলের বিবাহ দিলেন। সেই স্বামীর সঙ্গে তাদের সারাজীবনে দেখা হয়নি। (চলবে)
