বেশ্যার বারমাস্যা

পর্ব:২৪২

১৮ শতকের শেষ থেকেই বেশ্যাগমণ বাঙালি বাবু কালচারের অঙ্গ হয়ে ওঠে।

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায়: ১৮৪৬ খ্রিস্টাব্দের এদেশীয় তত্ত্ব বোধিনী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়- তান্ত্রিকেরা চণ্ডালী প্রভৃতি স্ত্রী সঙ্গকেও অতিগুহ্য পরমার্থ সাধনারূপে ব্যাখ্যা করেন। কলিকাতা প্রধান প্রধান বিদ্যালয়ের ছাত্র,,,, ব্যভিচার প্রভৃতি ,,,,,, দ্বারা মনুষ্য নামের অযোগ্য হইয়াছে। এই নগরীর কতক দলবদ্ধ ব্যক্তির সম্বন্ধে বলা হয়েছে, মাদক দ্রব্য সেবন এবং লাম্পট্য ব্যবহার এই দলভুক্ত ব্যক্তিদিগের জীবনের সারকর্ম হইয়াছে। ইদানীং এই রাজধানীতে,,,, লোক যখন স্বীয় বাটীর চতুর্দিকে বেশ্যাদিগের হাবভাব কটাক্ষ সর্বদা দেখিতে পায়, তখন সহজেই তাহারদের মন তাহাতে আসক্ত হয়।

অনেক বাঙালি কুলবধুও পরকীয়ায় মেতে উঠত ১৯ শতকে।

কেবল পুরুষেরা কুপথগামী হয় না, অনেক অন্তপূরস্থ স্ত্রী এই কুদৃষ্টান্ত দ্বারা ধর্ম হইতে প্রচ্যুতা হয়। বেশ্যাগমন পাপ,,,, কলিকাতা মধ্যে যে যে কি প্রকার বিস্তারিত হইয়াছে তাহা বর্ণনা করা যায় না। ধনী, মধ্যবর্তী , অতি দীন পর্যন্ত এই দুষ্কর্মে এমত,,, মগ্ন হইয়াছে যে,,, ইহাকে পরস্পর কাহারও নিকটে গোপন করে না।,,,,, এই নগরে এমত পল্লী নাই যেখানে শতশত বেশ্যা বাস করে না,,, তন্মধ্যে,,, এমত বেশ্যা নাই যাহার আলয়ে বহু লম্পট ব্যক্তিকে,,,, দেখা না যায়।

১৮ শতকের শেষ থেকে কলকাতার বেশ্যাপাড়ায় স্কুলের ছাত্ররাও যাতায়াত শুরু করে।

অনেক পুরুষ এ প্রকার দুরাচার যে ভার্যার সহিত সাক্ষাৎ করিতে তাহার দিগের প্রবৃত্তিই হয় না এ,,,, পতির নিতান্ত নিদারুণ কুব্যবহার জন্য যন্ত্রণা সহ্য করিতে অসমর্থা হইয়া কত স্ত্রী আত্মঘাতিনী পর্যন্ত হইয়াছে।( এই সংবাদ তত্ত্ববোধিনী পত্রিকায় আত্মচরিত প্রবন্ধে প্রকাশিত)

স্বামী বেশ্যাপল্লীতে রাত কাটায়। ব্রাত্য বহু বাঙালি বধূ যন্ত্রণায় আত্মহত্যা করত ১৯ শতকের শুরু থেকে।

সেই সমকালের আরেক পত্রিকা সম্বাদভাস্কর।১৮৪৪ সালে বাবুদের বিকৃত রুচি প্রসঙ্গে খবর প্রকাশিত হল, বজরাতে খেমটা নাচ হইতেছিল, তাহাতে আরোহি বাবুরা নর্তকীদের,,, পশ্চাৎ পশ্চাৎ এমত নৃত্য করিলেন,,, গঙ্গাস্নানে আগত কুলবালাগণকে তাহা দেখাইয়া ত্রিকূল পবিত্র করিলেন। (চলবে)

পরবর্তী পর্ব আগামী শুক্রবার,১৪ আগস্ট,২০২৬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *