শিরোনাম

বাঙালির ইতিহাস ও বহিরাগত তত্ত্ব

পর্ব :২৪৫

সিরাজদ্দৌলার মাতামহ আলীবর্দী খাঁ ছিলেন সিরাজের প্রতি অন্ধ স্নেহের অভিভাবক।

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায় : মাতামহী আমিনা বেগমের সুন্দরী পরিচালিকা রাজ কুনেয়ারের প্রেমে পড়েন সদ্য যুবক সিরাজ । দাসী রাজ কুনেয়ার স্বপ্নেও ভাবেননি সিরাজ তাঁর প্রেমে পড়বেন । সিরাজকে তিনিও যে ভালোবাসতেন তাঁর প্রমাণ মেলে সিরাজের হত্যার পর তাঁকে যেখানে কবর দেওয়া হয় তার পাশে কুঁড়ে ঘর বানিয়ে জীবন কাটান রাজ কুনেয়ার ওরফে লুৎফুন্নেসা। সেই করুণ কাহিনীতে পরে আসব ।এখন বলব সিরাজের বর্ণময় সংক্ষিপ্ত জীবনের কথা।

সিরাজের দ্বিতীয় স্ত্রী লুৎফুন্নেসা বেগম।

সিরাজের নবাবী জীবন মাত্র ১৪ মাস ১৮ দিন। ঐতিহাসিক সূত্রের তথ্যানুযায়ী সিরাজের জন্ম ১৭৩২ খ্রিস্টাব্দ। মৃত্যু ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দ। পুরো নাম মির্জা মোহাম্মদ সিরাজউদদৌলা। বালক বয়সেই সিরাজকে রাজনীতির পাঠ শেখাতে মাতামহ মুর্শিদাবাদের নবাব আলীবর্দী খাঁ যেমন মারাঠাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সিরাজকে সঙ্গে নেন, তেমন পাটনার শাসনকর্তা নিয়োগ করেন। কিন্তু নাতি সিরাজ যেহেতু অল্পবয়সী তাই তাঁর অভিভাবক হিসেবে রায়দুর্লভের পিতা রাজা জানকীরামকে সঙ্গে দেন। কিন্তু স্বাধীনচেতা সিরাজের এই অভিভাবক পছন্দ ছিল না।

সিরাজের কবরের পাশেই বেগম লুৎফুন্নেসার কবর।

সিরাজের জন্ম মুহূর্তের পর থেকেই আলীবর্দী খাঁ’র সব কাজ সফল হতে শুরু হওয়ায় তিনিই সিরাজের প্রতি একটু বেশিই দুর্বল ছিলেন । তাই সিরাজের কোন দোষকে দোষ হিসেবে দেখতেন না। শেষ জীবনে যেন তিনি অন্ধ ধৃতরাষ্ট্র। সিরাজ কিন্তু আলীবর্দী খাঁ’র স্নেহের পাত্র যাঁরা ছিলেন তাঁদের একে একে খুন করেন। তবু অন্ধ স্নেহে আলীবর্দী নীরব ছিলেন। (চলবে)

পরবর্তী পর্ব আগামী শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর,২০২৬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *