শিরোনাম

বাঙালির ইতিহাস ও বহিরাগত তত্ত্ব

পর্ব: ২৪৪

ঘসেটি বেগম

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায় : সিরাজের মাসি ঘসেটি বেগম যে সিরাজের শত্রু ছিলেন সেকথা আজ কারো অজানা নয়। ঘসেটি বেগমের মুন্সী মীরনজর আলী নিজের স্বার্থেই ঘসেটি বেগমকে প্রতিদিন সিরাজের বিরুদ্ধে তাঁর কানভারি করত। উদ্দেশ্য ঘসেটি বেগমকে একলা রেখে তাঁর সম্পদ ভোগ করা। ফলে সিরাজ যখন ঢাকায় ঘসেটি বেগমের প্রাসাদ আক্রমণ করল ও,মুন্সী মীরনজর বুঝল ছোট রক্ষীবাহিনী দিয়ে সিরাজকে রক্ষায় সম্ভব নয়। তাই ঘসেটি বেগমকে পালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে নিজেও বহু সম্পদ লুঠ করে মীরনজর পালিয়ে যান।

ঢাকায় ঘসেটি বেগমের প্রাসাদের ধ্বংসাবশেষ।

সিরাজ অবশ্য নিজে ঢাকায় যাননি। সিরাজ তাঁর সেনাপতিকে হুকুম দিয়েছিলেন, ঘসেটি বেগম আত্মসমর্পণ না করলে যেন তাঁকে স্বসম্মানে বন্দী করে তাঁকে মুর্শিদাবাদে নিয়ে আসা হয়। নিকষকালো অন্ধকারে একটি বজরা ঢাকার পদ্মা নদী থেকে রওনা দেয় সিরাজের পানসি।ঢাকার নায়েব নাজিম নিসারত খাঁ’র তত্ত্বাবধানে ঘসেটি বেগম চললেন সিরাজের মুর্শিদাবাদের পথের বন্দী হয়ে শেষ পর্যন্ত ঘসেটি বেগম কি মুর্শিদাবাদ পৌঁছেছিলেন ? সে প্রসঙ্গে পরে আসছি।

সিরাজদ্দৌলার দুই স্ত্রী।

সিরাজের প্রথম স্ত্রী ছিলেন উমদাতুন্নেসা। তিনি সারাজীবন ন্যস্ত ছিলেন বিলাসব্যসনে।১৭৪৬ খ্রিস্টাব্দে ভাগাস্ট মাসে ইরাজ খাঁ নামে এক অভিজাত ব্যক্তির কন্যা হিসেবে সিরাজের সঙ্গে তানের বিয়ে হয়। তবে তাঁদের কোন সন্তান ছিল না। সিরাজের মাতামহ আলীবর্দী খাঁ তখন নাতি সিরাজের আবার বিয়ে দেন লুৎফুন্নেসার সঙ্গে। এই বেগম প্রথম জীবনে ছিলেন হিন্দু নাম ছিল রাজ কুনেয়ার। সিরাজের মা আলীবর্দী কন্যা আমিনা বেগমের দাসী ছিলেন এই রাজ কুনেয়ার। (চলবে)

পরবর্তী পর্ব আগামী রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর,২০২৬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *