শিরোনাম

বেশ্যার বারমাস্যা

পর্ব:২৫১

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায়: বাঙালি মেয়ে বা বাঙালি বারাঙ্গনার ভারতব্যাপী ছিল খ্যাতি। মোঘলেরা নাকি বঙ্গ তনয়ার গালের ওপরে জুলফিতে পাগল। তাই বলতো জুলফে বঙ্গাল। বাৎস্যায়নের কামসূত্র শাস্ত্রে একথা উল্লেখ আছে । দক্ষিণ ভারত বা ওড়িশার মত ব্যাপক দেবদাসী প্রথা বাংলায় না থাকলেও বাংলার দেবদাসী মিয়ে লিখে গেছেন কাশ্মীরের ঐতিহাসিক কবি গবেষক কলহন। শ্রীধর দাসের সদুক্তিকর্ণামৃতে ( শ্লোক সংখ্যা ৫৭১) বাংলার বারাঙ্গনা নিতে শ্লোক উদ্ধৃত হয়েছে।

বৈষ্ণবী নেড়ানেড়ি ভক্তদের মধ্যে ব্যভিচার ছিল।

শ্রীচৈতন্যের গৌড়ীয় বৈষ্ণব ধর্মের প্রভাব যেমন ছিল তেমনই সেই ধর্মের গ্লানিও ছিল। নেড়ানেড়ি সম্প্রদায়ের মধ্যে কদাচার ও ব্যভিচার বাংলাকে কলুষিত করে বৈষ্ণব বৈরাগীদের অনেক আখড়ায় বাহ্যত যে বৈষ্ণব বৈষ্ণবী হরিনাম করত, তাঁদের মধ্যে অনেকেই যৌন জীবনে অভ্যস্ত ছিল। রামমোহন রায় প্রবর্তিত ব্রাহ্ম ধর্মে রামকৃষ্ণের উপদেশে,বিবেকানন্দের জ্বালাময়ী ভাষণে ও সংস্কারমূলক রচনায় ধর্মের নামে অনাচারের কিছু উল্লেখ মেলে।

১৭ শতকের পর থেকে বৈষ্ণবদের আখড়াগুলিতে কিশোরী ভজন প্রথা ছিল। কুমারী সংগ্রহ ছিল এই প্রথার মুখ্যকর্ম। এই কিশোরীদের দেবদাসী বৃত্তিতে নিযুক্ত করা হতো বৈষ্ণবেরা কন্থী বদল করে সঙ্গিনী নির্বাচন করত। মূলত যা সেবাদাসী। ( চলবে)

পরবর্তী পর্ব সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর,২০২৬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *