পর্ব: ২৪৮

বাঙালি হিন্দু বাবুদের উপপত্নীদের তালিকায় মুসলিম বাইজিরা ছিলেন প্রথম পছন্দ।
সুজিৎ চট্টোপাধ্যায় : বিবাহিত পুরুষদের উপপত্নী রাখার সামাজিক ও আইনি স্বীকৃতির বিরুদ্ধে সমাজের প্রতিষ্ঠিত উচ্চবর্ণের মহিলারা প্রতিবাদী হয়ে দাবি করেন এই আইন বাতিল করতে হবে। তাঁদের বক্তব্য ছিল পুরুষ ছাড়া মহিলা ব্যভিচারী হন না। পুরুষ যদি উপপত্নীর সঙ্গবিমুখ হয় , তাহলে স্ত্রী কুলটা হতে পারে না। মহিলাদের বক্তব্য প্রাচীন শাস্ত্রে ও পুরাণে স্ত্রী নির্যাতন সম্বন্ধে যে বিধি আছে, সেই অনুসারে আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্য সিদ্ধ হতে পারে।

বাবু বাঙালিদের বাইজি বিলাস ছিল বাংলা জুড়ে।
সংবাদপ্রভাকর পত্রিকায় ১ মে ১২৬১ সালে প্রকাশিত হয়েছিল কয়েক হাজার টাকা মাসহারা দিয়ে বা নর্তকী পোষার রীতি ছিল কলকাতার বাবু সমাজে। সমকালীন কয়েকজন বিশিষ্ট নর্তকী ছিলেন নিকি বাই, বেগমজান, হিঙ্গুলবাই, আশরত, জিনৎ বাই, । ফইজ বক্স, নন্নিজান, সুপনজান।যেসব বাবুরা নারী বিলাসিতায় মত্ত থাকতেন অধিকাংশই ইংরেজের অধীনে থাকা উচ্চপদস্থ ও দেওয়ান বা জমিদার শ্রেণী।

বাঙালি বাবুর দুর্গাপুজোর অনুষ্ঠানে বাইজি নাচ ছিল অবশ্যই বিষয়।
১২ অক্টোবর বি১৮২৬ সালে সরকারি গেজেট পত্রিকা থেকে জানা যায় যে, এক ধনী ব্যক্তির বাড়িতে দুর্গোৎসব উপলক্ষ্যে মুসলমান বাইজি ছাড়াও ব্রহ্ম দেশীয় কয়েকটি নর্তকী ও গায়িকাদের আমদানি করা হয়েছিল।২০ সেপ্টেম্বর ১৮৫৬ সালে সম্বাদ ভাস্কর পত্রিকায় দুর্গাপূজার সময়ে বড় মানুষ বাবুদের বাড়িতে বাই খেমটাওয়ালির গানের উল্লেখ আছে। (চলবে)
