*

দিগদর্শন ওয়েব ডেস্ক: খ্রিস্টপূর্ব ৬ শতাব্দীতে প্রাচীন ভারতের শল্য চিকিৎসায় জনক সুশ্রুত প্রথম মানবদেহের শব ব্যবচ্ছেদ করেছিলেন এমনটাই বলা হয়। যদিও বিশ্বে প্রথম শব ব্যবচ্ছেদ গ্রিসে শুরু খ্রিস্টপূর্ব ৩ শতকে। আধুনিক ভারতে ১৮৩৬ সালে ২৮ অক্টোবর কলকাতায় আধুনিক চিকিৎসার হাসপাতাল মেডিকেল কলেজে জনৈক কবিরাজ সংস্কৃত কলেজের আয়ুর্বেদ বিভাগের ছাত্র আধুনিক ডাক্তারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শব ব্যবচ্ছেদ করেন কট্টর ধর্মীয় সমাজের আপত্তি অগ্রাহ্য করে। নাম তাঁর মধুসূদন গুপ্ত।এরপর সময়ের স্রোতে আমরা হয়েছি আধুনিক বিজ্ঞান মনস্ক।
কিন্তু সত্যিই কি আমরা বিজ্ঞানমনষ্ক হয়েছি? পরিসংখ্যান বলছে,২০২৫ সাল পর্যন্ত মরণোত্তর অঙ্গদানের সংখ্যা ৭.৫৮ লক্ষ। বছরে তামিলনাড়ুতে ২৬৬ টি দেহদান হয়েছে। সেখানে ২০২৪ সালের নথিভুক্ত সংখ্যা মাত্র ১৪ টি। কারণ সচেতনতার অভাব।


শনিবার কলকাতা প্রেসক্লাবে মরণোত্তর দেহদান , নেত্রদান ও অঙ্গদানের সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রয়োজনীয়তার কারণ নিয়ে জ্যোতি বসু সমাজচর্চা ও গবেষণা কেন্দ্রের উদ্যোগে এক আলোচনাসভায় আয়োজন হয়। সভাপতিত্ব করেন বর্ষীয়ান সিপিএম নেতা বিমান বসু। স্বাগত ভাষণ দেন রবীন দেব। বক্তব্য রাখেন এস এস কে এম হাসপাতালের নেফ্রোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক অর্পিতা রায়চৌধুরী, ডা: সিদ্ধার্থ চক্রবর্তী, গণ দর্পণের রাজ্য সম্পাদক সুদীপ্ত সাহা রায়, পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের কলকাতা জেলা কমিটির সম্পাদক শেখ সোলেমান প্রমুখ। সঞ্চালনায় ছিলেন বিজ্ঞান আন্দোলনের কর্মী বাসব বসাক।

আলোচনায় অঙ্গদান , নেত্রদান ও অঙ্গদান সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির কথা বলেন। আলোচনায় উঠে আসে বেআইনি অঙ্গ পাচারের কথা। আলোচিত হয় প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর বিজ্ঞান চেতনার দূরদৃষ্টির কথা। সংবর্ধিত হন মায়ের দেহদানের বিরুদ্ধে সংখ্যাগুরু ও সংখ্যালঘু অচেতন কট্টর ধর্মীয়দের ষড়যন্ত্রে জেল হেফাজতে যাওয়া বিজ্ঞানকর্মী কৃষ্ণনগরের আমিরচাঁদ শেখকে।
