বেশ্যার বারমাস্যা

পর্ব:২৪৪

সম্বাদ কৌমুদী পত্রিকার প্রচ্ছদ।

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায় : ১৮৩১ সালে সম্বাদ কৌমুদীতে এক অভাগা নারীর করুণ কাহিনী প্রকাশিত হয়েছিল। এক কুলীন কন্যা কি করে পতিতায় পরিণত হলো তার কাহিনী। এক বয়স্ক কুলীন ব্রাহ্মণের সঙ্গে সৎমারা তাদের তিনবোনকে জোর করে বিয়ে দেয়। অথচ সেই কুলীন ব্রাহ্মণ কন্যাদায় থেকে মুক্তি দিলেও স্ত্রীদের ঘরে স্থান দেননি। মেয়েরা মামার বাড়িতে দাসী ও রান্নার কাজ করে জীবন ধারণ করার প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করত। কিন্তু সকলের পক্ষে সম্ভব হতো না। অনেক ক্ষেত্রে আত্মীয়ের লালসার শিকার হতে হতো।

বিদ্যাদর্শন পত্রিকার অন্যতম রূপকার ছিলেন অক্ষয় কুমার দত্ত।

বাধ্য হয়েই বহু মেয়ে স্বাধীন থাকতে নিষিদ্ধপল্লীতে গিয়ে বেশ্যা জীবন বেছে নিত। পতিত সমস্ত জীবনের শিকার মেয়েরা পতিত হতো।১৮৪২ সালে বিদ্যাদর্শন পত্রিকায় প্রকাশিত কিছু তথ্য মায়া ভট্টাচার্য ১৯ আগস্ট ২৯৮৪ সালে আনন্দ বাজার পত্রিকায় একটি প্রবন্ধ লেখেন। লেখিকা লিখেছেন,,,, কলিকাতা বাসিনী পতিতাটিও লিখেছে, “যখন আমার ষোড়শ বর্ষ বয়স তখন কোন দিবস অপরাহ্নে পঞ্চাশৎ বর্ষ একজন মনুষ্য আমাদের গৃহদ্বারে উপস্থিত হইলেন,,,,, তাঁহার কুৎসিৎ আকৃতি , গলিত অঙ্গ এবং পক্ক কেশাদি দর্শন করিয়া আমি হতবুদ্ধি হইয়াছিলাম। আমি জ্ঞানত: তাহাকে বরণ করি নাই অথচ (তিনি) আমার পতি , আমার (সকল)। সুখের মূলাধার।…. কী আশ্চর্য্য! তাঁহার মূর্তি যেমন কুৎসিৎ রজনীতে তাঁহার ব্যবহারও তদ্রূপ প্রত্যক্ষ হইল।”

বাংলায় কুলীন ব্রাহ্মণের বহু বিবাহ ছিল সম্মানের বিষয়।

একখানা হাত চিঠা খাতায় কুলীন বামুনরা বাঁদিকে বিয়ের হিসাব এবং পাত্রীর পিতার নাম ঠিকানা লিখে রাখতেন। তার পাশে পাশে লেখা থাকত টাকা ও ছেলেমেয়েদের কথা। পাওনা দক্ষিণা যেখানে বেশি সেখানে তাঁরা বেশী যেতেন। পা ধোয়ানি, নমস্কার। ভোজন দক্ষিণা না পেলে রাত্রি বাস করতেন না। কিছু টাকা আদায় করে নিয়ে চলে যাওয়ার পর তার আর কোনোদিন পুনরায়গমন হয়নি। বহু লাঞ্ছনার পর শান্তিপুরের কুলীনকন্যাকে অবশেষে মেছো বাজারের কানাগলিতে আসতে হয়। (চলবে)

পরবর্তী পর্ব আগামী শুক্রবার ২১ আগস্ট,২০২৬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *