
দিগদর্শন ওয়েব ডেস্ক: শতবর্ষে উত্তমকুমার। একটি যুগ,একটি কিংবদন্তি, একটি অধ্যায় ,একটি অবিস্মরণীয় নাম ।শতবর্ষ পেরিয়েও তার অভিনয় ,তার হাসি, তার ব্যক্তিত্ব আজও সকল বাঙালি হৃদয়ে অমলিন। তিনি মহানায়ক। আজকে ৩ সেপ্টেম্বর।
এই অবিস্মরণীয় কিংবদন্তির জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে ‘টালিগঞ্জ মহানায়ক উত্তমকুমার কালচারাল এবং ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’ র উদ্যোগে নজরুল মঞ্চে বিকাল পাঁচটায় আয়োজিত হয়েছিল ‘শতবর্ষের আলোয় মহানায়ক উত্তমকুমার।এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রমূখ বিশিষ্ট অতিথিবর্গ। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন তাপস রায় ,সজল ঘোষ ,সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় ,কল্যাণ সেন বরাট, খরাজ মুখার্জি, সৈকত মিত্র ,মনোময় ভট্টাচার্য ,শ্রীকান্ত আচার্য ,শ্রীরাধা বন্দোপাধ্যায় ,গৌরব সরকার, স্বাগতালক্ষ্মী দাশগুপ্ত, লোপামুদ্রা মিত্র, রাঘব চ্যাটার্জি প্রমূখ।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনার দায়িত্ব ভীষণ সুন্দরভাবে পালন করেছেন কুশল চক্রবর্তী এবং রিমঝিম মিত্র। এই বিশেষ সন্ধ্যায় চলচ্চিত্র সংগীত ও সংস্কৃতি জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা একত্রিত হয়ে বাংলা চলচ্চিত্রের প্রিয় মহানায়কের অসামান্য শিল্পী সত্তা ও অবিস্মরণীয় অবদানকে স্মরণ করেন । স্মরণীয় গান, অসাধারণ পরিবেশনা এবং হৃদয় স্পর্শী স্মৃতিচারণার মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি দর্শকদের হৃদয়ে অমলিন হয়ে থাকবে।

প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের দায়িত্বে ছিলেন কিংবদন্তি অভিনেত্রী সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়। সাবিত্রী দেবীকে সম্মান জানিয়ে তাকে বরণ করে নেয়া হয় । অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পাবলিক এন্টারপ্রাইজেস এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিকনস্ট্রাকশন বিভাগের মন্ত্রী শ্রী তাপস রায়।সমস্ত বিশিষ্ট অতিথিবর্গকে সম্মান জানিয়ে তাদের অনুষ্ঠানে সাদর আপ্যায়ন জানানো হয়। সমস্ত অতিথিবর্গই তাদের জীবনের মহানায়ককে নিয়ে স্মৃতি কিংবা অনুভূতি অল্প কথায় ব্যক্ত করেন।
টালিগঞ্জ মহানায়ক উত্তমকুমার কালচারাল এন্ড ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সম্পাদক শ্রী তন্ময় কর বলেন ‘মহানায়ক উত্তমকুমার ছিলেন এমন একজন শিল্পী যার বাংলা চলচ্চিত্রে অবদান সত্যি অতুলনীয়। উত্তমকুমার শুধুমাত্র একজন কিংবদন্তি অভিনেতা ছিলেন না তিনি ছিলেন এক আবেগ যা আজও কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে বেঁচে আছে ।এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমরা শিল্পী, অনুরাগী এবং বিভিন্ন প্রজন্মের মানুষকে একত্রিত করে তার অসাধারণ যাত্রা পথ ,কালজয়ী অভিনয় এবং বাংলা সংস্কৃতিতে তার অমূল্য অবদানকে উদযাপন করতে চেয়েছি।’
গানে গানে গল্পকথায় এক অসম্ভব সুন্দর অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয় দর্শকদের সামনে। অবশ্যই অনুষ্ঠানটি গভীর ছাপ রেখে গেল সবার মনে। মহানায়কের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে অনুষ্ঠানটি আবারও প্রমাণ করলো যে উত্তমকুমারের অসামান্য উত্তরাধিকার আজও প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে দর্শক ও শিল্পীদের অনুপ্রাণিত করে চলেছে।
