শিরোনাম

বাঙালির ইতিহাস ও বহিরাগত তত্ত্ব

পর্ব:২৪২

মীরজাফর নয়। সিরাজের প্রধান বিশ্বাসঘাতক শত্রু উমিচাঁদ।

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায় : ইংরেজের সঙ্গে বণিক উমিচাঁদের ঘনিষ্ঠতা পছন্দ করতেন না। ফলে ক্রমশ দুজনের সম্পর্কের অবনতি ঘটতে থাকে। কিন্তু মুর্শিদাবাদে বসে মুর্শিদাবাদের নবাবের সঙ্গে তিক্ত সম্পর্ক গড়ে ব্যবসা করা সম্ভব নয়। তাই জগৎ শেঠ ভ্রাতৃদ্বয় , রামনারায়ণ, রায়দুর্লভ ও উমিচাঁদের একটি চক্র গড়ে ওঠে।

রাজ্যের খরচ চালাতে জগৎ শেঠের কাছে সিরাজ ঋণ নিতে বাধ্য হতেন।

আলীবর্দীর প্রিয়পাত্র ছিলেন নাতি সিরাজ। ছোটবেলা থেকেই নানা নানীর আদরে বাঁদর হয়ে উঠছিলেন। মদ্যপানের নেশাও তাঁকে গ্রাস করেছিল ছোটবেলা থেকেই। সিরাজ যখন বাংলার সিংহাসনে তখন বাংলার জগৎ শেঠ চক্রের কাছে তাঁকে বারবার হাত পাততে হয়েছে রাজ্য চালানোর খরচ জোগাড় করতে। ইতিমধ্যে ইংরেজ বন্ধু এই পূর্ণিয়ার নবাব শওকত জঙ্গের বাংলা আক্রমণ রুখেছেন । আশ্চর্যের ব্যাপার শওকত কিন্তু ছিলেন সিরাজের ভাই।

ঘসেটি বেগম সিরাজের পিসিমা হলেও ছিলেন তাঁর প্রধান শত্রু।

সিরাজের আর এক ঘোষিত শত্রু ছিলেন ঘসেটি বেগম। ঘসেটি ছিলেন আলীবর্দী খানের বড় মেয়ে। অর্থাৎ সিরাজের পিসিমা ঘসেটি বেগমের বিয়ে হয়েছিল আলীবর্দীর বড় ভাই হাজী আহমেদের ছেলে নওয়াজিস মহম্মদ শাহমত জঙ্গের সঙ্গে। আলীবর্দীও বাকি দুমেয়েরও না বিয়ে দেন দাদার বাকি দুই ছেলের সঙ্গে।আলীবর্দীর বড় ভাই নোয়াজেশ মোহাম্মদের সঙ্গে ঘসেটি বেগমের, দ্বিতীয় ছেলে সৈয়দ মোহাম্মদের সঙ্গে মেজমেয়ে ওবিদাদার তৃতীয় ছেলে নৌউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে সঙ্গে ছোট মেয়ের বিয়ে দেন। শাহমতকে আলীবর্দী ঢাকার নায়েব নাজিম নিয়োগ করেন। (চলবে)

আগামী পর্ব ৬ সেপ্টেম্বর, রবিবার ২০২৬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *