পর্ব:২২৩

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায় : শাহ সুজা যে শুধু বাংলার সুবেদার ছিলেন তা নয়। কামরূপ ও কোচবিহার রাজ্যও দখল নেন।বলতে গেলে গোটা পূর্ব ভারতই ছিল সুজার দখলে। বাংলার হিজলি অঞ্চলের বিদ্রোহী শাসক ছিলেন বাহাদুর খান। সুজা তাঁকে পরাজিত করেন। বাহাদুর খান সন্ধি করে কুমিল্লার কিছু অংশ সুজাকে ভেট দেন। সুজা সেখানে বিজয় স্মারক হিসেবে নিজের নামে এক মসজিদ নির্মাণ করেন। সংস্কৃতি প্রিয় সুজা বিদেশ থেকে বহু কবিকে নিজের সভায় নিয়ে আসেন।
বাংলার ঢাকায় প্রায় তিনশ শিয়া সম্প্রদায়ের মুসলিমদের বসতি স্থাপন করেন। অথচ নিজে ছিলেন সুন্নি। সুজার ছিল তিন স্ত্রী। সুজা বুঝেছিলেন দেশের অর্থনৈতি মান বাড়াতে বিশ্ব সংযোগ বাড়ানো দরকার। তাই তিনি অবাধ বাণিজ্যের জন্য ইউরোপীয় বণিকদের আমন্ত্রণ জানান। ব্রিটেনের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ও ডাচ কোম্পানি আমন্ত্রণ স্বীকার করেন।

ঐতিহাসিক সূত্র বলে, স্বয়ং সুজা অবৈধভাবে ব্যবসা চালাতেন। চুক্তি ছিল তাঁর পারস্যের জাহাজ মালিকদের সঙ্গে। এইসময় রাজস্ব বাড়ে প্রায় ১৫ শতাংশ। আকবরের সময়ের চেয়ে বেশি।১৬৫৭। শাহাজান অসুস্থ হন ।গুজব রটে যায় তিনি প্রয়াত । বড় পুত্র দারা শিকো সিংহাসন দখল রাখতে চুপ করে শাজাহানের মৃত্যুর গুজবকে প্রশ্রয় দেন। শাজাহানের বাকি তিন পুত্র সুজা, আওরঙ্গজেব ও মুরাদ বখশ দিল্লিতে এসে উপস্থিত হন। উদ্দেশ্য একটাই। পিতার মৃত্যুর খবর গুজব না সত্যি পরখ করা। মৃত্যু হলে সিংহাসন দখল করা। শাহজাহান প্রিয় ছিলেন বড় ছেলে দারাশিকো। এরপর কূটনীতিক চালে বড় ভাইকে হঠাৎ করে পিতাকে বিন্ডিত করে মহিউদ্দিন ওরফে আওরঙ্গজেব কিভাবে ক্ষমতা দখল করে সম্রাট হলেন সে ইতিহাস সকলেই জানেন। ফিরে যাবো বাংলা ও বাঙালির ইতিহাসে।
সুজা আওরঙ্গজেবের সঙ্গে যুদ্ধে পরাজিত হয়ে বাংলায় ফিরে আসেন। কিন্তু অল্প কিছুদিনের মধ্যেই বুঝে যান আওরঙ্গজেবের নজরে পড়তে চলেছে বাংলা । সমর শক্তিতে প্রতিরোধ সম্ভব হবে না জেনে সুজা সিদ্ধান্ত নেন মক্কা ঘুরে পারস্যে ফিরে যাবেন।( চলবে)
