*

দিগদর্শন ওয়েব ডেস্ক: রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, বুক ভরা মধু বঙ্গের বধূ জল লয়ে যায় ঘরে – মা বলিতে প্রাণ করে আনচান , চোখে আসে জল ভরে। বিদেশি কবি ক্যাটি হার্টসটক তাঁর ব্রেস্ট মিল্ক কবিতায় মাতৃদুগ্ধকে ইতিহাস, পৌরাণিক প্রজ্ঞা ও জীবনের আদি উৎস হিসেবে উল্লেখ করেছেন । ওয়ইট হুইটম্যান লিখেছেন আই সিং দা বডি ইলেকট্রিক। সেখানে তিনি মাতৃত্ব ও সন্তানকে স্তন্যদানকে আত্মার এক পবিত্র অঙ্গ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
স্বাধীনতার ৭৯ তম বর্ষে এদেশের মাতৃদুগ্ধের কি অবস্থা? জাতীয় পরিবার স্বাস্থ্য নবজাতককে সমীক্ষা বলছে, জন্মের প্রথম ঘণ্টায় বুকের ঘণ্টায় ৫০ শতাংশ হয়ে গেলেও প্রথম ছমাসের ক্ষেত্রে ৬৩.৭ শতাংশ থেকে কমে ৫৫.৮ শতাংশ নেমে গেছে। এছাড়াও সন্তানসম্ভবাদের কিছু শারীরিক ত্রুটি ও এক শ্রেণীর চিকিৎসকের ব্যবসায়িক মনোবৃত্তি তদোপরি নতুন মায়েদের প্রসব যন্ত্রণা এড়িয়ে যাওয়ার জন্য শল্য চিকিৎসায় শিশুর জন্ম দেওয়ার ঘটনা ক্রমবর্ধমান। আবার বহু সন্তানসম্ভবা বুকের গঠন নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয়ে শিশুকে বুকের দুধ না খাইয়ে বাজারজাত দুধ খাওয়ায়। ফলে শিশুর ত্বকের সঙ্গে মায়ের সম্পর্ক স্থাপন হয় না।

অনেকক্ষেত্রে আর্থিক অসচ্ছল পরিবারের মায়েরা অসংগঠিত ক্ষেত্রে শ্রমদান করার ব্যস্ততায় নিয়মিত শিশুকে মাতৃদুগ্ধ থেকে বঞ্চিত করতে বাধ্য হন। যে ভারতমাতার ধ্বনিতে রাষ্ট্রবাদীরা আকাশ বাতাস মুখরিত করেন সেই শাসক দল ১৪ বছর শাসন ক্ষমতায় থেকেও রাস্তা ঘাটে মাত্র ৬ শতাংশ নিরাপদ জায়গা পান সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়াতে। মাতৃত্বের যথাযোগ্য সম্মান না থাকায় সর্বত্র সম্ভ্রম ত্যাগ করেই মায়েদের শিশুকে স্তন্যপান করাতে বাধ্য হন।
বুধবার সকালে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ অডিটরিয়ামে বেঙ্গল অবস্ট্রেটিক অ্যান্ড গাইনোকোলজিক্যাল সোসাইটি ও ইন্ডিয়ান সোসাইটি অব পেরিনাটোলজি অ্যান্ড রিপ্রোডাক্টিভ বায়োলজির উদ্যোগে একটি ধারাবাহিক চিকিৎসা শিক্ষা কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে বিশ্ব স্তন্যপান সপ্তাহ ২০২৬ পালিত হলো।

এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেশের খ্যাতনামা প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ , শিশু বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ,ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। প্রধান অতিথি ছিলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ইন্দ্রনীল বিশ্বাসও সংগঠনের সভাপতি ডাঃ শ্যামল শেঠ ও সাম্মানিক সম্পাদক ডাঃ সেবন্তি গোস্বামী।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে সরকার ও চিকিৎসক স্বাস্থ্যকর্মীদের যৌথ দায়িত্বের কথা স্মরণ করান। তিনি আরও বলেন, এই সচেতনতা অনুষ্ঠান কলকাতায় নয় গ্রামবাংলায় নিয়ে যান। সঙ্গে থাকবে রাজ্য সরকার। শেষ পর্বে উদ্যোক্তাদের পক্ষে ইংরেজিতে শপথ বাক্য পড়ানোয় অসন্তোষ প্রকাশ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এই শপথ ইংরেজিতে কেন? শহুরে পরিধিতে বেঁধের রাখলে গ্রামীণ মায়েদের কাছে বার্তা কি করে পৌঁছবে? এই সমালোচনায় অস্বস্তিতে পড়েন উদ্যোক্তারা।
স্বাধীনতার এত বছর পরেও বাংলায় চিকিৎসা বিদ্যার বই নেই। বাংলাদেশে তবু পাঁচ শতাংশ বই আছে। যদিও কেন্দ্রীয় সরকার নাকি দেশে মাতৃভাষায় পাঠ্যক্রম চালুর আলোচনা শুরু করেছে । পক্ষে বিপক্ষে অনেক মন্তব্য আছে। কিন্তু শহরকেন্দ্রিক এমন অনুষ্ঠান ও ইংরেজিতে শপথ গ্রহণ বাংলায় প্রসূতি সচেতনতা কতটা ফলপ্রসূ হবে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সমালোচনায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
