শিরোনাম

নাই বা হলো কূলে যাওয়া..

দিগদর্শন ওয়েব ডেস্ক : মধ্যমগ্রাম দর্পণ নাট্যসংস্থার প্রযোজনায় ১৯ জুন, সন্ধ্যেয় গিরিশ মঞ্চে মঞ্চস্থ হল নাটক ‘নাই বা হলো কূলে যাওয়া’। রচনা, নির্দেশনা ও অভিনয়ে অমিতাভ দত্ত। গল্পের পটভূমি হিসেবে উঠে আসে বাঁকুড়া জেলা এবং সেখানকার বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের আবেগ-উচ্ছ্বাস, ব্যথা-বেদনার কথা। চারিপাশে আমিত্বের আস্ফালনের বিপরীত স্রোতে হাঁটা মানুষ, ডাক্তার দেবরাজ ঘোষ। তিনি তাঁর স্বপ্নটাকে বাঁচিয়ে রেখেছে স্বপনে, মননে। বিজ্ঞানী জে বি এস হলডেন যে সামাজিক আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন, সেই আন্দোলনে সকলকে সামিল করতে ডাক্তার, তুহিন, জীবনদারা অঙ্গীকারবদ্ধ। তাদের লক্ষ্য মৃত্যু-পরবর্তী মানবদেহ দান আন্দোলন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। মানবদেহ দানের মূল প্রতিপাদ্যকে ঘিরে নাটকটি আবর্তিত হয়েছে। একজন ডাক্তারের অদম্য দৃঢ় সংকল্পকে চিত্রিত করেছে, যিনি সাহসের সাথে সমাজের মধ্যে কুসংস্কার, দুর্নীতি এবং আগ্রাসনের মুখোমুখি হন। কিন্তু স্বাধীনতার এত বছর বাদেও কি আমরা সত্যি-সত্যিই সমাজের অন্ধবিশ্বাস দূর করতে সক্ষম হয়েছি, ভাবায় এই নাটক। এছাড়াও এই নাটকের ঘটনা পরম্পরায় সামাজিক দায়িত্ববোধ ও সমাজ মনস্কতার পরিচয় পাওয়া যায়।

একজন নিঃস্বার্থ সমাজসেবী চিকিৎসক দেবরাজ ঘোষের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তপন রায়, জীবন চরিত্রে অমিতাভ দত্ত। ডাক্তারের স্ত্রী নন্দিনীর ভূমিকায় চৈতালি সরকার। ফাদার চরিত্রে অভিনয়ে ছিলেন দেবাশিস দত্ত। এছাড়াও অভিনয়ে ছিলেন আকাশ : শুভজিৎ দাস, সুধা : দেবস্মিতা বিশ্বাস, রেজ্জাক গোলদার : অরূপ রায়, সুন্দরী : অরুন্ধতী দত্ত প্রমুখ। সকলেই নিজস্ব ভূমিকায় অনবদ্য। নাট্যমঞ্চে কয়েকটা ব্লক বা রস্ট্রামের নানা মাত্রিক বিন্যাসে বিশ্বাসযোগ্যতা পেয়েছে মঞ্চ ভাবনা (মঞ্চ নির্মাণ : মদন হালদার)। আলো (সৈকত মান্না), আবহ (কৌশিক সজ্জন), আবহ প্রক্ষেপণ ও দৃশ্যকল্প নির্মাণ (কৃশানু ব্যানার্জী) এবং রূপসজ্জা (সমীর ঘোষ) যোগ্য সঙ্গত করেছে নাটকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *