
রাজা প্রতাপাদিত্য।
সুজিৎ চট্টোপাধ্যায় : প্রতাপাদিত্যের সেনারা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ায় মিত্র পর্তুগিজ সেনাপতি রডা নিহত হলেন মোঘল সেনাদের। হাতে। প্রতাপ বাধ্য হয়ে পিছু হটলেন। যশোর দুর্গ ছেড়ে চলে গেলেন ধুমঘাট দুর্গে।কিন্তু সেখানেও মিত্রদের বিশ্বাসঘাতকতায় তিনি ব্যথিত হলেন। মরণপণ করার করেও প্রাণ হারালেন। পিতৃহত্যা ওর জামাইকে কারারুদ্ধ করে রাখার বদনাম থাকা সত্ত্বেও প্রতাপ কিন্তু ছিলেন ধর্মনিরপেক্ষ। বহু মসজিদ তিনি নির্মাণ করেছেন। তিনি পর্তুগিজ মিশনারীদেরও সম্মান করতেন। বাংলায় প্রথম গির্জা তৈরি হয়েছিল । এক পর্তুগিজ মিশনারী পিমেন্টো ফনসেকার প্রতাপকের অনুরোধ করেছিলেন।

বাংলার সুবেদার ইসলাম খান।
সেলিম ওরফে জাহাঙ্গীর দিল্লির সিংহাসনে বসেই নজর দিলেন বাংলার দিকে। দায়িত্ব দিলেন বাংলার সুবেদার ইসলাম খানকে। ইসলাম খান সরাসরি বাংলার বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের চেয়ে কূটনীতি প্রয়োগে সচেষ্ট হলেন। সেইসময় বাংলার সবচেয়ে বিদ্রোহী আফগান নেতা উসমান খাঁ। তিনিই ছিলেন বাংলার শেষ স্বাধীন আফগান শাসক। ১৬০০ খ্রিষ্টাব্দে এক যুদ্ধে মোঘল শক্তিকে তিনি পরাজিত করেন। ১৬১০ খ্রিষ্টাব্দে রাজধানী রাজমহল থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করেন। দুবছর পর বাংলায় জাহাঙ্গীর অনুগত সুবেদার ইসলাম খান নেকুজানা নামের একস্থানে নিহত হন। এই আফগান বিদ্রোহী ইসলাম খান ঢাকা রাজধানীকে জাহাঙ্গীরনগর নামে রূপান্তরিত করেন। ফলে বাংলার সর্বত্র মোঘল শাসনের অন্তর্ভুক্ত হয়।

জাহাঙ্গীর ছিলেন নূরজাহানের দ্বিতীয় স্বামী।
জাহাঙ্গীরের ছিল মদ ও আফিমের নেশা। বাধ্য হয়ে সম্রাটের বেগম নূরজাহান রাজকার্য সামলানোর দায়িত্ব নেন। নূরজাহানের দ্বিতীয় স্বামী ছিলেন জাহাঙ্গীর। তাঁর প্রথম স্বামী ছিলেন পারস্যের দুঃসাহসিক সৈনিক ও বর্ধমানের জায়গিরদার আলী কুলী বেগ। যিনি বিখ্যাত ছিলেন শের আফগান নামে। ১৫ ৯৪ সালে ১৭ বছর বয়সে তাঁর বিয়ের হয় নূরজাহানের সঙ্গে। নূরের প্রকৃত নাম ছিল মেহের -উন -ন্নিসা। (চলবে)
