*

দিগদর্শন ওয়েব ডেস্ক: দার্শনিকদের তালিকায় প্লেটো থেকে ভলতেয়ার বলেছেন, পৃথিবীর কোনো সৃষ্টিই নিখুঁত নয়। একই কথা বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের নিরিখে বলেছেন ডারউইন সহ বহু বিজ্ঞানীরা বিবর্তনের নিরিখে মানুষ শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে স্বীকৃত হলেও পুরুষ নারী এই দুই সত্ত্বার বাইরেও এক তৃতীয় সত্ত্বা আছে। বিজ্ঞ্যান বলে, এটা কোনো শারীরিক ত্রুটি নয়, এটি জৈবিক বৈচিত্র্য। ক্রোমোজমের ভিন্নতায় নারী পুরুষের মধ্যবর্তী এক স্তরে কিচ্ছু মানুষ জন্মান। আবার অনেকে ছোটবেলায় পুরুষ হয়ে জন্মালেও তাঁর নারীসুলভ মনন তাঁকে নারীত্বে আকর্ষণ করে। বিজ্ঞান বলে তৃতীয় লিঙ্গ।
এদেশেও তৃতীয় লিঙ্গের অস্তিত্ব প্রাচীন যুগ থেকেই আছে। রামায়ণে ইল উপাখ্যানে, মহাভারতে শিখণ্ডী চরিত্র নির্মাণ প্রমাণ করে তৃতীয় লিঙ্গের অস্তিত্ব। হিন্দু ধর্মীয় গ্রন্থে কিন্নর সমাজের কথা আছে। ইসলামী কিতাবেও তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের খুলসা বলা হয়েছে। এঁদের বেঁচে থাকার অধিকারকেও স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। বাইবেলে বিষয়টি একটু জটিল হলেও অস্বীকার করাও হয়নি।
সোমবার বিকেলে কলকাতা প্রেস ক্লাবে ভারতীয় হিন্দু কিন্নর সমাজের রূপালী মল্লিক তৃতীয় লিঙ্গের সম্মানজনক অস্তিত্বের প্রয়োজনে গড়ে তোলা ভারতীয় কিন্নর ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের পক্ষে এক সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করেন। রূপালী মল্লিক ছাড়াও বক্তা ছিলেন তৃতীয় লিঙ্গের এক সদস্য ড: রঞ্জিতা সিনহা।

এঁদের অভিযোগ , বেআইনিভাবে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ থেকে কিছু মুসলিম কিন্নর এবং পুরুষেরা কিন্নর সেজে কলকাতা সহ বাংলায় সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। যাঁরা বিভিন্ন সমাজবিরোধী কাজের সঙ্গে যুক্ত। অথচ এ রাজ্যের কিন্নরদের এরাই নিজভূমে পরবাসী করে রেখেছে। বিগত তৃণমূল সরকারের বদান্যতায় এই অভারতীয় কিন্নররা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ভারতীয় কিন্নরদের ভয়ের দেখিয়ে পেশাগত জীবিকায় বাধা সৃষ্টি করে চলেছে। নতুন সরকারের পক্ষে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে দ্রুত এই বাংলাদেশি কিন্নরদের চিহ্নিত করে রাজ্যছাড়া করা হবে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সংগঠনের পক্ষে জানানো হয় সরকারিভাবে তৃতীয় লিঙ্গ স্বীকৃত হলেও হাসপাতালে নেই তৃতীয় লিঙ্গের জন্য কোনো সংরক্ষিত শয্যা। ফলে অসুস্থতায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া সমস্যার কারণ হয়।মুখ্যমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়ে তাঁরা কিন্নর সমাজের সমস্যা ও অস্তিত্ব সংকটের কথা জানিয়েছেন। আশা,মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের সমস্যার সুরাহা করবেন।
