বেশ্যার বারমাস্যা

ঋষি মনু।

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায় : হিন্দু সংস্কৃতির পূজ্য মনু ঋষি স্ত্রীদের ভিন্ন অর্থাৎ ভর্তৃনিরপেক্ষ কোন যজ্ঞ, ব্রত বা উপবাসের অধিকার নিষিদ্ধ করেছিলেন। একমাত্র পতি শুশ্রুষা তাঁর স্বর্গের পথ সুগম হবে। এই শ্লোকের ব্যাখ্যায় মেধাতিথি (আনুমানিক প্রথম শতাব্দী)বলেছেন এখানে ব্রত শব্দে বোঝায মদ্যমাংসাদি নিবৃত্তি সংকল্প , কিন্তু কৃচ্ছ বা কষ্ট সাধ্য ব্রতানুষ্ঠান নয়। তাঁর মতে , স্বামীর অনুমতিক্রমে স্বামীর অনুমতিক্রমে স্ত্রী এই সংকল্প গ্রহণ করতে পারেন। কিন্তু কোন অবস্থাতেই স্ট্রিট জপহোমাদি অঙ্গযুক্ত কৃচ্ছসম্পাদনে অধিকারী নন। সর বিষয়ে অবশ্য পণ্ডিতেরা একটু উদারতার পরিচয় দিয়েছেন। ওই শ্লোকের টীকায় বাঙ্গালী কুল্লুকভট্ট ( আনুমানিক ১১০০ খ্রিষ্টাব্দে মতান্তরে পঞ্চদশ শতকের পূর্ববতী) মত প্রকাশ করেছেন যে স্বামীর অনুমতি সাপেক্ষে স্ত্রী ব্রতানুষ্ঠান করতে পারেন।

ঋষি মেধানিধি।

আইনকানুনের ক্ষেত্রে স্ত্রীদের প্রতি সহানুভুতি বা অনুকম্পা লক্ষিত হয়। স্ত্রী ধনে স্ত্রীদের দান ও বিক্রির অধিকার দেওয়া হয়েছে। স্বামীদের সেক্ষেত্রে কোন অধিকার নেই। অবস্থিত দুর্ভিক্ষ , অপরিহার্য ধর্মকার্য , ব্যাধি ও সং প্রতিরোধকে অর্থাৎ ঋণ পরিশোধের জন্য বাধা নেই পতি পত্নীর স্ত্রীধন ব্যবহার করতে পারেন। কিন্তু এইসব অবস্থায় স্ত্রী ধন গ্রহণের পর স্বামী যদি অন্য স্ত্রীকে নিয়ে বাস করেন এবং পূর্ব স্ত্রীকে অবহেলা করেন , তাহলে তিনি ঐ স্ত্রী ধন ফিরিয়ে দিতে বাধ্য।

বৈদিক যুগের নারী

পতির সঙ্গে সম্বন্ধ নিরপেক্ষ ভাবে স্থাবর সম্পত্তিতে স্ত্রীর অধিকার স্বীকৃত হয়নি। উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত পতির সম্পত্তিতে পত্নীর শুধু ভোগ স্বত্ব থাকে দান বা বিক্রয়ের অধিকার থাকে না। (চলবে )

পরবর্তী পর্ব আগামী সোমবার ২২ জুন,২০২৬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *