পর্ব ২৩৭

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায় : এই প্রতিবেদন তৈরিতে বহু গ্রন্থ প্রামাণ্য তথ্যহিসেবে ব্যবহার করেছি। মুখ্য যে গ্রন্থটি বিশেষভাবে সহায়ক হয়েছে সেটি সুরেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় ও রমলাদেবী রচিত ভারতীয় সমাজে প্রান্তবাসিনী। লেখকদ্বয় বাংলার বারাঙ্গনা বিষয়ে লিখেছেন ঘনরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল গ্রন্থ যা আনুমানিক ১৭১১ সাল নাগাদ রচিত। এই গ্রন্থে সমসাময়িক সময়ে সমাজ জীবনের প্রচুর তথ্য সংযোজিত হয়েছে। এই তথ্য যে বাংলার বারাঙ্গনাবৃত্তির কোনো তথ্যই যে কাল্পনিক নয় সেকথাও পরবর্তীকালের গবেষণায় প্রমাণিত।

লাউসেন রায়। যিনি কর্নাটের ময়নাগড় অঞ্চলের রাজা কর্ণসেনের পুত্র ধম্ম ঠাকুরের ভক্ত। ধর্মমঙ্গল কাব্যের মূল চরিত্র লাউসেনের শৌর্যবীর্যের সম্পর্কে বর্ণনা দিতে বলা হয়েছে তিনি কঠিন তপস্যা করে পশ্চিমে সূর্যোদয় ঘটিয়েছিলেন। এই লাউসেন একবার ঘুরতে ঘুরতে জামতিনগরে যান। এই অঞ্চলে পুরুষকাতর কিছু বারাঙ্গনার বাস ছিল। লাউসেনের নবীন বয়স ও কন্দর্পকান্তি চেহারায় অভিভূত বারঙ্গনারা যেমন লালায়িত হয় তেমন বহু পুরুষকামী বিবাহিত নারীরা পর্যন্ত লাউসেনের কাছে পতিনিন্দা করে তাঁর ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করে।
এই নারীদের বক্তব্য, ভজিব নাগরে কিবা পাপ ঘরে স্বামীটা জীয়ন্তে মরা। এঁরা নানাভাবে লাউসেনকে বোঝাবার চেষ্টা করল তাঁরা কেউ স্বামী নিয়ে সুখী নন। কবি ঘনরাম চক্রবর্তী লিখেছেন এই নারীরা বলেন, শোয়াইয়া খাটে, রাখিব রভস রসে, যৌবনেরই হাটে। (চলবে)
