পর্ব:২৪১

মধ্যযুগে বঙ্গনারীদের বহিরাগত রাজার সেনাদের ধর্ষণের বহু বর্ণনা লিখিত আছে।
সুজিৎ চট্টোপাধ্যায় : বিভিন্ন দেশে বহিরাগত রাজার সেনাদের পররাজ্য আক্রমণের সাথে সাথে সে দেশের নারীদের ধর্ষণ করা, অনেকক্ষেত্রে সেই ধর্ষিতা নারীরা অবাঞ্ছিত সন্তানদের মা হত্যার বাধ্য হতেন। এমন বহু ঘটনা ইতিহাসে আছে। মধ্যযুগের ভারত এর ব্যতিক্রম নয়। বাংলাও সেই তালিকায় আলাউদ্দিন ওরফে ন্যামান রচিত ‘বহারিস্তান – ই- গায়েবী’ নামে এক প্রামাণ্য গ্রন্থে (যা এম আই ব্রচ ১৯১৭ সালে ইংরেজিতে অনুবাদ করেন) প্রতাপাদিত্যের বিরুদ্ধে মোঘল সেনাদের যুদ্ধ বর্ণিত হয়েছে। গ্রন্থটির বৈশিষ্ট্য লেখক ছিলেন এই যুদ্ধের অন্যতম সেনানায়ক।

এই গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে মুসলিম সেনারা বাংলার প্রায় চারহাজার নারীকে বিবসনা করে বন্দী রেখেছিল। পরবর্তী সময়ে এই নারীরা সমাজে স্থান না পেয়ে বেশ্যাবৃত্তি অবলম্বনে বাধ্য হয়েছিল।১৫ শতকের চিনা পর্যটকদের বিবরণে জানা যায় , সেযুগে অধিকাংশ পরিবারে স্বামী বা স্ত্রীর মৃত্যু হলে বিপত্নীক বা বিধবারা আর দ্বিতীয় বিয়ে করতেন না। ধনী সম্প্রদায়ের মধ্যে নারী সম্ভোগ , মদ্যপান, গণিকা গমন, নিজের গৃহে বাইজি নৃত্য উপভোগ সমাজস্বীকৃত ছিল।

১৮৪৬ সালের এই পত্রিকায় মধ্যযুগের বাঙালির স্খলনের ইতিহাস বর্ণিত হয়েছে।
১৭ শতকের বিদেশি পর্যটক জে ডি লায়েট (১৬৩০) লিখেছেন, বাংলায় নারীরা অসতী ও লজ্জাহীনা ছিল। এই সময়ের আরেক পর্যটক জি শুটেন লিখেছেন , লাম্পট্যে ও দুর্নীতি ভারতের সর্বত্র থাকলেও বাংলায় ছিল বেশি।সমসাময়িক নাগরিক সমাজের নৈতিক স্খলনের বিস্তৃত বিবরণ ১৮৪৬ খ্রিস্টাব্দের এদেশীয় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকাতেও ছাপা হয়েছিল।( চলবে)
