ওঙ্কার টিভির উদ্যোগে পাওয়ারিং বেঙ্গল ২০২৬

*

দিগদর্শন ওয়েব ডেস্ক : অধুনা বাংলাদেশের সোনারগাঁও ও এপার বাংলার সপ্তগ্রাম বন্দরকে ঘিরে যে বাংলার কৃষি বাণিজ্যনির্ভর বিশ্বজুড়ে বাজার সৃষ্টি হয়েছিল । সঙ্গে ছিল উন্নত বস্ত্র শিল্প। এছাড়া ঢাকার শঙ্খ শিল্প ও অলঙ্কার নির্মাণ শিল্পীর কদর ছিল অভাবনীয়। আজও সেই ট্র্যাডিশন আছে। কিন্তু বাংলায় ব্রাহ্মণ্যবাদ প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সঙ্গে বিদেশে জলযোগে রপ্তানি আমদানিতে বাঙালির সংযোগ কালাপানির নামে পাপ ঘোষণা হওয়ায় সেই বাণিজ্য ষড়যন্ত্র করে বন্ধ করে প্রথম বাঙালির ব্যবসায় কোপ পড়ল। যেটুকু বঙ্গ বাণিজ্য অবশিষ্ট ছিল সেটুকু নষ্ট হলো ইউরোপীয় ও মগ জলদস্যুদের অত্যাচারে। তাঁর বন্দুক ও কামান জাহাজে রেখে বাণিজ্যের পাশাপাশি জলদস্যুতা করত বাঙালি বণিকেরা জানত না বন্দুক চালাতে। কামান চালাতে। কবি বংশীদাস লেখেন, মগ ফিরিঙ্গি যত বন্দুক পলিতা হাত, একবারে দশগুলি ছোটে।

ইতালীয় পর্যটক ভার্থেরাও ১৫০৫ খ্রিস্টাব্দে লেখেন , বাংলাদেশের মত ধনী বণিক আর কোনো দেশে তিনি দেখেননি। মুঘল আমলে বাংলার মোট জিডিপি ছিল ও১২; থেকে ৫০ শতাংশ। তথাকথিত স্বাধীনতার পরেও বাংলার জিডিপি ছিল ৪০ শতাংশ। এহেন বাংলার শিল্প বাণিজ্য ক্রমশ অবনতি হওয়ায় এখন বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকে পরিবর্তিত হয়ে ভিন রাজ্যে বা ভিন দেশে সস্তার শ্রমিক হয়েছে। সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামের ঘটনার পুরো দায় মাথায় নিয়ে বাম সরকারকে বিদায় নিতে হয়েছে।

পরবর্তী সময়ে ঋণের টাকায় জনগণের অধিকার থেকে বঞ্চিত করে অনুদান নির্ভর করে তোলা হয়। মজার কথা কেন্দ্রীয় সরকারের প্রধান হিসেবে একদিন যে মোদীজি অনুদানপ্রথার বিরোধী ছিলেন সেই তিনি তাঁর দল শাসিত রাজ্যে ডোল রাজনীতিকে প্রশ্রয় দিলেন। ফলশ্রুতি মানুষ এখন অনুদাননির্ভর হয়ে উঠেছে। একদল ধনী শিক্ষিত যুব সমাজ বিদেশে সোনার ভবিষ্যত গড়তে চলে যাচ্ছে। শিক্ষা এদেশে বেসরকারি ব্যবসায়ীদের হাতে পড়ে মহার্ঘ হয়ে পড়েছে। একটা চাকরির আশায় জমিজমা , সঞ্চয় খরচ করে পাশ করে বেকার হয়ে বসে আজকের যুবসমাজ।

এহেন পরিস্থিতিতে বাংলার অর্থনৈতিক পরিবর্তন করে চাকরির পাশাপাশি স্বনির্ভর উদ্যোক্তা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তাকে গুরুত্ব দিয়ে কলকাতার বাংলা টিভি চ্যানেল ওঙ্কার টিভি এক সৃজনশীল পাওয়াড়িং বেঙ্গল ২০২৬ এক সেমিনার এবং অল্পখ্যাত শিল্পউদ্যোগীদের স্বীকৃতি সম্মান জানানোর আয়োজন করে কলকাতার উপনগরী সেক্টর ফাইভের এস টি পি আই অডিটরিয়ামে। স্বাগত ভাষণ দেন সংস্থার প্রাণপুরুষ প্রহলাদ গোয়েঙ্কা। সেমিনারের বিষয় ছিল বাংলার তথ্য প্রযুক্তি ও বৈদ্যুতিন শিল্প, বিশ্বের সম্ভাবনা।বক্তাদের মধ্যে ছিলেন ড: কল্যাণ চক্রবর্তী, রবীন্দ্র চামারিয়া , অরূপ কালী , নিরুপম চৌধুরী , মঞ্জিত নায়েক। সঞ্চালক ছিলেন কৌশিক ভট্টাচার্য।

আর একটি বিষয় ছিল ওমেন ইন লিডারশিপ এন্ড এন্টারপ্রেনায়ার্স । এই প্রসঙ্গে এম্পাওয়ারিং ওমেন টু লিড বেঙ্গলস গ্রোথ স্টোরি শীর্ষক আলোচনায় বক্তব্য রাখেন রাজ্যের পুর উন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল , রচনা মুখার্জি, দেবশ্রী রায় সরকার, ডা: সোনালী রায়, অর্কপ্রভ সরকার।

অনুষ্ঠানের এক পর্বে রাজ্যের প্রায় তিরিশ জন শিল্প উদ্যোগী যাঁরা একাধারে বাণিজ্য ও সমাজ সংস্কারে যুক্ত তাঁদের স্বীকৃতি সম্মান জানানো হয়। ওঙ্কার টিভির সিইও সুশাঙ্ক মাইতি ও ম্যানেজিং এডিটর বিপ্লব দাসের পরিচালনায় এই উদ্যোগ এক ইতিবাচক উপস্থাপনা হয়ে ওঠে। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় যোগসূত্র রচনায় দৃষ্টিআকর্ষণ করেন ওঙ্কার টিভির সঞ্চালিকা ও সংবাদপাঠিকা অপরূপা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *