বেশ্যার বারমাস্যা

পর্ব:২৩০

রূপ গোস্বামী

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায় : রূপ গোস্বামীর পদ্যাবলী কোষকাব্যও ভক্তি রসসিক্ত। বৈষ্ণবদের দৃষ্টিতে শৃঙ্গাররস অবশ্য স্থূল অর্থে নয়, প্রায়ই ভক্তিমিশ্রিত। বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের বহির্ভূত লেখকগণ v কর্তৃক রচিত অনেক কাব্য নাটকেও এই রসের প্রাধান্য আছে।

অবৈষ্ণব দূতকাব্যগুলির মধ্যে বেশ কয়েকটি শৃঙ্গাররসাশ্রিত; যথা ধোয়ির ( ১২ শ শতক) পবনদূত, রুদ্রন্যায় বাচস্পতির ( আনুমানিক ১৫ শ -১৬ শ শতক) ভ্রমরদূত ও পিকদূত, শ্রী কৃষ্ণ তর্কালঙ্কারের ( ১৮ শ শতক মধ্যভাগ) চন্দ্রদূত প্রভৃতি। অপেক্ষাকৃত অল্পজ্ঞাত বা অজ্ঞাত কয়েকটি দূতকাব্যও উল্লেখযোগ্য। যথাসিদ্ধনাথ বিপ্রের পদ্মদূত অজিত ন্যায়রত্নের বকদূত, কৃষ্ণনাথ ন্যায়পঞ্চাননের বাতদূত ত্রৈলোক্য মোহন গুহ নিযোগীর মেঘ দৌত্য। বাংলার অবৈষ্ণবকতক নাটকে শৃঙ্গাররসের প্রাধান্য তো আছেই, কোন কোন গ্রন্থে আবির্ভূতা হয়েছেন গণিকাও।

প্রাচীন বাংলা কাব্যে বারাঙ্গনা উল্লেখ রয়েছে প্রচর

কবি তার্কিকের (১৬ শ শতকের শেষ) কৌতুক রত্নাকর ও গোপীনাথ চক্রবর্তীর কৌতুকসর্বস্ব এই দুটি প্রহসনে গণিকার উল্লেখযোগ্য ভূমিকা আছে। লক্ষ্মণসেনের সমকালীন শ্রীধর দাসের উল্লেখিত বি সদুক্তিকর্ণামৃত নামের কোশকাব্যের পাঁচটি প্রবাহের মধ্যে একটির নাম শৃঙ্গার প্রবাহ। দেবতা প্রবাহের পরেই এই প্রবাহ স্থানলাভ করেছে। এতে আবার শুধু বারাঙ্গনা সম্বন্ধে পাঁচটি শ্লোক উদ্ধৃত হয়েছে।( চলবে)

আগামী পর্ব ৬ জুলাই, সোমবার,২০২৬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *