বাঙালির ইতিহাস ও বহিরাগত তত্ত্ব

পর্ব : ২২৫

চট্টগ্রাম বন্দর ছিল আরকান রাজার অধীনে।

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায় : সুজার মেয়েরা আত্মহত্যা করে সম্মান বাঁচান এমন তথ্যের ওপর নির্ভর করে চট্টগ্রামের অলিতে গলিতে আজও ও লৌকিক পালাগানে গাওয়া হয় রাজকন্যাদের বিলাপ। নছিবে একি ছিল রে, কি নাইওর করিলি মা- বাপ , ঠেকলাম মগ্যার হাতে। এত দুঃখ খোদা মোর লেখিলা বরাতে। মা বহিনেরে হারাইলাম, হারাইলাম বাপ তোরে, মগ্যা রাজা ছল কইর‍্যা লুটলই লইল মোরে। হায়! লুইট্যা লইল মোরে। নছিবে একি ছিল রে। সেযুগে আরকান রাজ্যের মানুষকে মগ বলা হত। সেই রাজ্যে আইনের শাসন ছিল না। তাই প্রবাদ বাক্যে বলা হয় মগের মুলুক।

সম্রাট শাজাহান।

সুজার সপরিবারে মৃত্যু হওয়ায় আওরঙ্গজেবের গদির দাবিদার কমল বটে, কিন্তু আওরঙ্গজেব ভাইকে হত্যা করতে চাননি। পিতা শাজাহানের ম গৃহবন্দি করে রাখার পরিকল্পনা ছিল। তাই ভ্রাতৃহত্যার বদলা নিতে আওরঙ্গজেব আরকান রাজ্য আক্রমণ করে দখল নিলেন। তেমন ঢাকা ও তমলুকের পর্তুগিজদের নিজের পক্ষে বশ্যতা স্বীকার করিয়ে নেন। আরকানরাজা বদলা নিতে তাঁর দখলীকৃত চট্টগ্রামের বণিক পর্তুগিজদের ওপর অত্যাচার শুরু করেন পর্তুগিজরাও পাল্টা সংঘবদ্ধভাবে ১৬৬৫ খ্রিষ্টাব্দে ১৯ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম বন্দরে আরকানদের নোঙর করা অনেকগুলি জাহাজ তোপ দেগে জ্বালিয়ে দেয়। অবশ্য মোঘল সেনাদের সাহায্যে।

আরকান রাজাকে পরাস্ত করে চট্টগ্রাম দখল করায় বাংলার নবাব শায়েস্তা খাঁকে পুরস্কৃত করেন আওরঙ্গজেব।

শেষপর্যন্ত প্রবল নৌ যুদ্ধ শুরু। আরকান সেনারা চট্টগ্রাম দুর্গ ছেড়ে বি পিছু হটে।
চট্টগ্রাম জয়ে খুশি হয়ে আওরঙ্গজেব বাংলার বি নবাব শায়েস্তা খাঁকে একটি হীরে মানিক খচিত ভি তরবারি উপহার দেন। এছাড়াও দুটি হাতি, দুটি ঘোড়া, সোনার কারুকার্য খচিত ভি চাঁদোয়া পাঠান। সেনাপতি ভি উমেদ খাঁকে নিযুক্ত করেন বি চট্টগ্রামের সুবেদার হিসেবে। চট্টগ্রামের নতুন নামকরণ হয় ইসলামাবাদ।( চলবে)

পরবর্তী পর্ব আগামী শনিবার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *