শিরোনাম

বাঙালির ইতিহাস ও বহিরাগত তত্ত্ব

পর্ব :২২২

বাংলায় পর্তুগিজ বণিকের আড়ালে এসেছিল জলদস্যু।

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায় : পর্তুগিজ বণিকদের অধিকাংশই ব্যাণিজ্যের আড়ালে দস্যুবৃত্তি করত।অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল বাংলার মানুষ। অস্বীকারের উপায় নেই পর্তুগিজ বাঙালিকে দিয়েছেও অনেক। ফলের বৈচিত্র্য চিনিয়েছে। ছানা, পনির , বিস্কুট ও পাউরুটির সঙ্গে পরিচয় করিয়েছে। লঙ্কা , আলু উপহার দিয়েছে। বাঙালির মাংসের রান্নায় বা বিরিয়ানিতে আলু , খেতে শিখেছে পর্তুগিজদের সৌজন্যেই। বহ পর্তুগিজরা ভাষা ঢুকেছে বাংলায়। জানলা, চাবি, আলমারি, গামলা, সাবান , বালতি,ফিতা, বোতাম। পর্তুগিজর মিশনারি প্রথম বাংলায় ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা করে বাংলা ব্যাকরণ ও অভিধান প্রকাশ করে। বাঙালির গর্ব রসগোল্লা পেত না ছানা তৈরির কৌশল যদি পর্তুগিজ না শেখাত।

কিন্তু সবকিছুর ঊর্ধ্বে চলে গিয়েছিল দস্যুবৃত্তি ।শাজাহানের সেনাপতি কাশিম খান ১৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে বাংলার সুবেদার হয়েই পর্তুগিজদের হুগলি থেকে বিতাড়িত করেন। বেশকিছ দস্যুকে বন্দী করা হয়। পর্তুগিজদের এবার নজর পড়ল চট্টগ্রামে। শাহজানের দ্বিতীয় সুবেদার ইসলাম খানের কঠোর পদক্ষেপে চট্টগ্রামে মগ ও পর্তুগিজ দস্যুরা বেশিদিন টিকতে পারেনি। এরপর বাংলার তৃতীয় সুবেদার হন শাহজানের পুত্র সুজা। সুজার সিদ্ধান্তে বাংলার রাজধানী ঢাকা থেকে সরে যায় রাজমহলে।

বাংলার সুবেদার ইসলাম খান

এই সময়ে বাংলা কৃষি ও বাণিজ্যে এগিয়ে যায়। বাংলায় সুজা সুবেদার ছিলেন দীর্ঘ ২০ বছর। এই সময়ে বাংলার শ্রী বৃদ্ধির খবর সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।বিভিন্ন দেশ থেকে মুসলিম পরিব্রাজক, কবি, শিক্ষক, উলামা, চিকিৎসক, বণিকরা দলে দলে বাংলায় আসতে থাকেন। ফার্সি হয় সরকারি ভাষা। বাংলা ভাষাতেও ফার্সি শব্দের অনুপ্রবেশ ঘটে। সাদা, জামা,নামাজে, রোজা, সুদ, আইনকানুন,, সাজা, বস্তা, সবুজ ,বাজারে, সালিশি, নালিশ , সুপারিশ, ফরমান, তারিখ, আমদানি, সবজি, রসদ, এমন বহু শব্দ বাংলা ভাষাকে সমৃদ্ধ করেছে।( চলবে)

পরবর্তী পর্ব রবিবার ২৮ জুন ২০২৬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *