শিরোনাম

বাঙালির ইতিহাস ও বহিরাগত তত্ত্ব

পর্ব:২৪১

জগৎ শেঠের পরিবার।

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায় : সিরাজের সঙ্গে জগৎ শেঠ ও স্বরূপচাঁদের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটার অন্যতম কারণ এই দুই ভাইয়ের সঙ্গে যোগ দেন রায় দুর্লভ , রামনারায়ণ, উমিচাঁদ প্রমুখ। রায়দুর্লভ ছিলেন বাংলার নবাব আলীবর্দী খানের সভার পেশকার। জনৈক জমিন্দার জানকিরামের পুত্র রায়দুর্লভ পরবর্তী সময়ে উড়িষ্যার দেওয়ানও হন। সেই সময় মারাঠারাজ রঘুজি ভোঁসলে বি উড়িষ্যা আক্রমণ করলে রায়দুর্লভ পরাজিত ও বন্দী হন। শেষপর্যন্ত তিনলক্ষ টাকা পণ দিয়ে মুক্তি পান।

রায়দুর্লভ মুক্তি পেয়ে চলে আসেন মুর্শিদাবাদ। চাকরি নেন রাজা রামনারায়ণের কাছে। নজরে পড়ে যান বাংলার নবাব আলীবর্দী খানের। তাঁর সেনাবাহিনীতে সেনানায়ক পদে আসীন করা হয় তাঁকে। সিরাজ বাংলার নবাব হওয়ার পর যেমন জগৎ শেঠ ও স্বরূপচাঁদকে নিজের অধীনে রাখার চেষ্টা করেন সিরাজ তেমন একই চেষ্টা করেন রায় দুর্লভের ক্ষেত্রে। ফলে রায়দুর্লভ মিত্রতা গড়ে তোলেন জগৎ শেঠের সঙ্গে। রামনারায়ণের ক্ষেত্রেও একই ব্যাপার।

বাংলার সিংহাসনের লোভে উমিচাঁদ ইংরেজের সঙ্গে হাত মেলান।

মূলত আগ্রার ব্যবসায়ী উমিচাঁদ আটের শতকের দ্বিতীয় দশকে বাংলায় আসেন। উমিচাঁদব্যবসা করতেন সোরা আর আফিমের। সিরাজের সঙ্গে প্রথমে উমিচাঁদের সম্পর্ক ভালোই ছিল। কিন্তু উমিচানদের নজর ছিল বাংলার সিংহাসনে। তাই গোপনে সিরাজের শত্রু ইংরেজদের সঙ্গে যোগসূত্র স্থাপন করেন উমিচাঁদ। এই মেলামেশা সিরাজের পছন্দ ছিল না। (চলবে)

পরবর্তী পর্ব আগামী শনিবার ৫ সেপ্টেম্বর,২০২৬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *