বাঙালির ইতিহাস ও বহিরাগত তত্ত্ব

পর্ব :২২৪

বাংলার সুবেদার সুজা।

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায়:; সপরিবারে সুজা মক্কা হজ করে পারস্যে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করলেও বাদ সাধল প্রকৃতি। সমুদ্র উত্তাল হওয়ায় আরকানে আশ্রয় নেন সুজা। সেখানকার সুলতান সাদরে অতিথিকে বরণ করে নিলেও তাঁর নজর ছিল সুজার অসামান্যা সুন্দরী কন্যাদের ওপর। একসময় সুজাকে পরিবারের লোকজন সহ হত্যা করা হয়। কারণ সেই সুলতানের প্রস্তাব মত তাঁর মেয়েদের আরকান সুলতানের হাতে তুলে দিতে রাজি হননি কয়েকজন পালিয়ে যেতে সমর্থ হলেও সুজার পুত্রকন্যারা কেউ জীবিত থাকেননি। ইতিহাসের পাতা থেকে মুছে গেল বাংলার এক সুবেদারের নাম।আজও বাংলাদেশের চট্টগ্রাম , কক্সবাজার অঞ্চলের আঞ্চলিক ইতিহাসে লোক সংস্কৃতিতে বাংলার নবাব শাহ সুজার আরকান রাজ্যে গমন ও আরকান রাজার হাতে মর্মান্তিক মৃত্যুর পাঁচালী গাওয়া হয়। সেই লোকগীতিতে চোখের জলে ভেজা সুরে সুজা ও তাঁর স্ত্রী পরীবানুর কথা প্রতিধ্বনিত হয়। সুজার কিছু বংশধর পূব বাংলায় থাকতে থাকতে বাঙালি হয়ে গেছেন। সুজার আরকান রাজ্যে গমনের সময় বিশ্বস্ত সেনাপতি, রাজকর্মচারী ছাড়াও সঙ্গে ছিল ১২ টি উট বোঝাই ধনরত্ন সহ ৫০ হাজার অনুগত সেনা।

মোঘল সাম্রাজ্যের সবচেয়ে বেশি বিতর্কিত সম্রাট আওরঙ্গজেব।

শেষপর্যন্ত বর্ষার দাপটে মাত্র ৪০ জন অনুচর,২০০ দেহরক্ষী , স্ত্রী পরীবানু, তিন কন্যা ও এক পুত্রকে নিয়ে আরকান রাজার আতিথ্য গ্রহণ করেন। সুজা যে বাংলা ছেড়ে আরকান রাজার অতিথি হয়েছেন সেখবর পৌঁছে যায় ভাই আওরাংজেবের কাছে। তিনি শত্রুর শেষ রাখতে চান না। আরকান রাজাকে সেনাপতি মীর জুমলা মারফত জানান , পরিবারসহ সুজাকে তাঁর হাতে তুলে দিলে ১২ হাজার স্বর্ণমুদ্রা দেবেন।

আওরঙ্গজেবের সেনাপতি মীর জুমলা।

আরকান রাজা স্বর্ণমুদ্রার লোভে মিত্র থেকে শত্রুতে বদলে যান। আরকান রাজা যে বিশ্বাসঘাতকতা করতে চলেছেন অনুচর মারফত সে খবরও পৌঁছে যায় সুজার কাছে তিনিও ধনরত্ন দিয়ে আরকান সেনাদের বিদ্রোহ ঘটাতে যান কিন্তু পরিকল্পনায় ত্রুটি। মাত্র বি৪৪ বছর বয়সে ১৬১৬ খ্রিস্টাব্দে ২৩ জুন সপরিবারে সুজা খুন হলেন। বাংলার কিছু ঐতিহাসিকেরা বলেন সুজার সুন্দরী কন্যারা আব্রু বাঁচাতে আত্মহত্যা করেন। (চলবে)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *