পর্ব: ২২৯

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায়: গত পর্বে যে শ্লোকের বঙ্গানুবাদ দিয়েছিলাম সেই শ্লোকের রচয়িতার নাম অজ্ঞাত । সুতরাং কোন সময়কালের রচনা বা কোন গণিকাদের উদ্দেশ্যে লিখিত সেই সম্পর্কে কোন নির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া সম্ভব নয় । তবে অনেক ঐতিহাসিকদের ধারণা কবি শ্রীধরদাসের অর্থাৎ v১২ শ শতাব্দীর শেষভাগ ও ১৩ শ শতাব্দীর শুরুর সময়কালের রচনা। এই দেশের বৈষ্ণব দূত কাব্যগুলির মধ্যে রূপ গোস্বামীর হংসদূত উদ্ভবসন্দেশ, শ্রীকৃষ্ণ সার্বভৌমের পদাঙ্কদূত (১৭১১-১২) ত্রিলোচনের তুলসীদূত (১৮০৮), মাধবকবীন্দ্র ভট্টাচার্যের ( ১৯ শতকের শুরুতে) উদ্ভবদূত, হরিদাসের কোকিলদূত (১৮৫৫) ভোলনাথের পান্থদূত প্রভৃতি রচনায় অঙ্গীরস,শৃঙ্গার, আলম্বন বিভাব কৃষ্ণ রাধা বা গোপবধূ বর্ণিত হয়েছে।
কয়েকটি অল্পজাত বা অজ্ঞাত বৈষ্ণব দূতকাব্যেও প্রধান শৃঙ্গাররস; যথা রামদয়াল তর্ক রত্নেরু অনিলদূত, গৌরগোপাল শিরোমণির কাকদূত, রামগোপালের কীরদূত, লম্বোদর বৈদ্যের গোপীদূত, গোপেন্দ্রনাথ গোস্বামীর ভি পাদপদূত, অম্বিকাচরণের পিকদূত, রঘুনাথ দাসের বংসদূত প্রভৃতি রচনার উপজীব্য শৃঙ্গাররস প্রধান ঘটনা।

গৌড়ীয় বৈষ্ণবদের মধুর রস প্রীতির উজ্জ্বলতম ভি নিদর্শন শ্রী চৈতন্য (১৪৮৬-১৫৩৩) সমকালীনশ্রীরূপ গোস্বামীর ভি উজ্জ্বলনীলমণি; এতে উজ্জ্বল বলে অভিহিত শৃঙ্গাররসের সম্বন্ধে বিস্তৃত আলোচনা আছে। শ্রীরূপ গোস্বামীর বি দানকেলি , কৌমুদি, বিদগ্ধমাধব ও ললিতমাধব এই তিনখানি নাট্য গ্রন্থেই উক্ত রস প্রধান। এই তথ্য বর্ণিত হয়েছে সুরেশচন্দ্র বন্দোপাধ্যায় ও রমলাদেবী লিখিত ভারতীয় সমাজে প্রান্তবাসিনী গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।( চলবে)
