
ভারতের প্রাচীন যুগে বেশ্যা শিল্পীর কল্পনায়।
সুজিৎ চট্টোপাধ্যায় : বৌদ্ধ ও জৈন যুগের গণিকার সামাজিক স্বীকৃতি থাকলেও বিভিন্ন গ্রন্থে তাঁদের নেতিবাচক বিশেষণে ভূষিত করা হয়েছে। বলা হয়েছে প্রতারক, মিথ্যাভাষিণী, তিরস্কারে পটু, ভণ্ড, কুম্ভীরশ্রু বিসর্জনকারী, কৃত্রিমহাস্য পটু, অকারণহরষকরিণী, অকারণ বিলাপকারিণী ইত্যাদি। বলা হয়েছে দক্ষিণী গণিকাদের নিজেদের মধ্যে সদভাবের অভাব। অসৎ ব্যক্তি বা বেশ্যা স্থিরচিত্তের হয় না। মেঘের ছায়ার মত বেশ্যার অনুরাগ ক্ষণস্থায়ী।

ভারতীয় গণিকাদের দৈহিক সৌন্দর্যের কথা বহু গ্রন্থে উল্লেখ আছে।
আরও বলা হয়েছে বেশ্যা নিতম্ব চপল, অমার্জিত। অঙ্গদান করতে পটু। তাঁরা হৃদয় কাউকে দেয় না। তবে শেষের সিদ্ধান্ত কতটা সঠিক তাই নিয়ে বিতর্ক আছে।বহুত ঘটনা আছে যেখানে কোনো বারাঙ্গনা কাউকের হৃদয় দিয়ে পেশা ত্যাগ করেছে। বেশ্যাদের বিশ্বাসঘাতকতা নিয়েও অনেক বর্ণনা আছে। এইসব গ্রন্থে বেশ্যারা কিভাবে খদ্দেরকে ফাঁদে ফেলে তারও বর্ণনাআছে ।অঙ্গভঙ্গি, নৃত্য, গীত শৈলিকিভাবে অঙ্গ প্রদর্শনে কুহকের মত পুরুষকে আকর্ষণ করে। খদ্দেরের মন বুঝে তাঁদের সঙ্গে হাসে, কাঁদে। মিষ্টি বাক্যে মোহিত করে। নিজের দিকে আকর্ষণ করে পুরুষকে টার্ট প্রতিত মোহময় করে রাখে।

দক্ষিণ ভারতে গণিকারা স্তন উন্মোচন করে পুরুষ আকর্ষণ করত।
এব্যাপারে তারা নিজের বিশাল স্তন উন্মোচিত করে ।কেশবিন্যাস করে শৈল্পিক উপায়ে। সুরেশ চন্দ্র বন্দোপাধ্যায় ও রমলাদেবী তাঁদের ভারতীয় সমাজে প্রান্তবাসিনী গ্রন্থে বহু বারাঙ্গনা অধ্যায়ে লিখেছেন বঙ্গদেশে গণিকাবৃত্তির ব্যাপকতর অন্যতম কারণ বোধ হয় সাইট দেশের লোকের প্রাচুর্য।নদীমাতৃক এই দেশে লোকির প্রচুর খাদ্য ছিল। তাছাড়া নানা প্রকার শিল্পকর্মে , বিশেষত সানখাই, মসলিন প্রভৃতির জন্য এই দেশের খ্যাতি ছিল। (চলবে)
