বেশ্যার বারোমাস্যা

জৈন সাহিত্যে গণিকাদের জীবনযাত্রার বিবরণ আছে।

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায় : জৈন সাহিত্যে নর্তকীরা ৭২ রকমের কলায় অভিজ্ঞ ছিলেন বলে জানানো হয়েছে। তবে এই নর্তকীর কিন্তু গণিকা হিসেবে চিহ্নিত ছিলেন না। অভিধানরাজেন্দ্রে ৩৭৬ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে যে গণিকাদের বাহাত্তর কলায় অভিজ্ঞ হওয়া দরকার। এই কলাগুলির মধ্যে নিম্নলিখিত বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

অভিধানরাজেন্দ্র পুঁথিতে মেলে গণিকা সংবাদ

১) লেহ -লেখ অর্থাৎ বিবিধ আঞ্চলিক বর্ণমালা এবং প্রভু, গুরুজন, শিষ্য, পুত্র প্রমুখের কাছে লেখা পত্র।২) গণিত অর্থাৎ অঙ্ক শাস্ত্র ৩) রূবম অর্থাৎ পাথর বা ধাতু দিয়ে মূর্তি নির্মাণ, চিত্র বিদ্য্য।৪) নট্টম – নৃত্য শিক্ষা ৫) গায়ম – গীত শিক্ষা ৬) বাইয়ম – বাদ্যযন্ত্র শিক্ষা ৭) সরগয়ম – স্বরগতে সঙ্গীতের স্বরগ্রাম শিক্ষা ৮) পুকখরগয়ম – বিবিধ ঢাকবাদন ৯) সমতালম – তালবাদ্য জ্ঞান ১০) জুয়ম – জুয়া খেলা শিক্ষা ১১) জনবায়ম – জনপ্রিয় সংলাপ ১২) পাশয়ম – পাশা খেলা শিক্ষা ১৩) অটঠাবয়ম- আট বর্গাকার বস্তু নিয়ে খেলা ১৪) পোরকচ্ছম – কবিত্ব ১৫) দাগ পট্রিয়ম – জল ও মাটি দিয়ে বস্তু নির্মাণ ১৬) অন্নবিহিম – রন্ধন শিক্ষা,১৭) পানবিহিম – চোলাই মদ তৈরি ১৮) বখবিহিম – বস্ত্র নির্মাণ ১৯) সবনবিহিন – শয্যা প্রস্তুত ২০) বিলেবনবিহিম – গন্ধদ্রব্য ও অঙ্গরাগ নির্মাণ। এমন মোট ৭২ রকমের শিক্ষায় শিক্ষিত হলে শ্রেষ্ঠ গণিকা মর্যাদা মিলত সমাজে।

বাৎস্যায়নের কামসূত্র গ্রন্থে যৌনতার পাঠ বর্ণিত হয়েছে।

বাৎস্যায়নের কামশাস্ত্র গ্রন্থে ছলা -কলা বিষয়ে বহু নির্দেশ আছে। ঋষি ভরত যিনি নাট্যশাস্ত্রের উদ্গাতা, দামোদর গুপ্ত যিনি কুট্টনিমত গ্রন্থ রচনা করেছেন সেই সব গ্রন্থেও গণিকার ছলাকলারবর্ণনা আছে। বলা হয় মৃচ্ছকটিক নাটকের রচয়িতা শুদ্রকও গণিকাদের ছলাকলা বিষয়ে বর্ণনা দিয়েছেন। বেশ্যাদের বৈশিষ্ট সম্পর্কেও বহু গ্রন্থে আলোচিত হয়েছে। তেমন বারাঙ্গনাদের দোষত্রুটি নিয়েও আলোচনা আছে। এক জায়গায় বলা হয়েছে বারাঙ্গনা অর্থাপহারী, কামদেবের চাবুক , মৎস্যভূক, নর্তকী, চিপিটনসা কূলনাশিনী, অবনীভূতা, কাম পেটিকা ও সুসজ্জিতা। (চলবে)

আগামী পর্ব ১২ জুন, শুক্রবার,২০২৬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *