শিরোনাম

এম পি বিড়লা ফাউন্ডেশন হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের বার্ষিক পুরস্কার অনুষ্ঠান

দিগদর্শন ওয়েব ডেস্ক: এম.পি. বিড়লা ফাউন্ডেশন হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী ২০২৬: কৃতীদের সংবর্ধনা, অভিভাবক-বিদ্যালয়ের সমন্বিত অংশীদারিত্বের ওপর জোর

কলকাতা: এম.পি. বিড়লা ফাউন্ডেশন হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল তাদের বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান ২০২৬-এর আয়োজন করে শিক্ষাক্ষেত্রে কৃতিত্ব, সৃজনশীলতা এবং সার্বিক বিকাশে অসামান্য সাফল্য অর্জনকারী ছাত্রছাত্রীদের সম্মানিত করেছে। একই সঙ্গে দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আগামী প্রজন্মকে গড়ে তুলতে বিদ্যালয় ও অভিভাবকদের যৌথ দায়িত্ব ও অংশীদারিত্বের গুরুত্বও তুলে ধরা হয়।

এই অনুষ্ঠানে ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষিকা, প্রাক্তনীরা এবং বিশিষ্ট অতিথিবৃন্দ উপস্থিত থেকে শিক্ষাগত সাফল্য, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং সর্বাঙ্গীণ বিকাশের এক বর্ণাঢ্য উদ্‌যাপনে সামিল হন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন আইপিএস আধিকারিক সুরজিৎ কর পুরকায়স্থ, এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেহালা পূর্বের বিধায়ক শঙ্কর শিকদার। তাঁরা বিভিন্ন শিক্ষাক্ষেত্র ও সহ-পাঠ্যক্রমিক কর্মকাণ্ডে অসামান্য কৃতিত্বের জন্য মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের সম্মাননা প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানের সূচনা হয় মঙ্গলাচরণ ও বিদ্যালয়ের সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে। এরপর স্বাগত ভাষণ দেন এম.পি. বিড়লা ফাউন্ডেশন হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের অধ্যক্ষা শ্রীমতী পূর্ণিমা চট্টোপাধ্যায়। তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষাগত সাফল্য, সহ-পাঠ্যক্রমিক কর্মকাণ্ডে অর্জিত উল্লেখযোগ্য সাফল্য এবং আত্মবিশ্বাসী, সহানুভূতিশীল ও ভবিষ্যৎ-প্রস্তুত শিক্ষার্থী গড়ে তোলার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন। পুরস্কারপ্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীদের সম্মাননা প্রদানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের সিইও এস. কে. সিং-ও। এদিন ছাত্রছাত্রীদের পরিবেশনায় সংগীত ও নৃত্যের সমন্বয়ে সামাজিক বার্তাবাহী মৌলিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও দর্শকদের মুগ্ধ করে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অধ্যক্ষা শ্রীমতী পূর্ণিমা চট্টোপাধ্যায় বলেন, “বর্তমান সময়ে শিক্ষা শুধুমাত্র ভালো ফলাফলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আমাদের সন্তানরা এমন এক দ্রুত পরিবর্তনশীল, প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে বেড়ে উঠছে, যেখানে তাদের দ্রুত চিন্তা করা, দ্রুত মানিয়ে নেওয়া এবং একসঙ্গে একাধিক কাজ করার সক্ষমতা অর্জন করতে হচ্ছে। তাই শুধুমাত্র জ্ঞান নয়, তাদের মধ্যে মানসিক দৃঢ়তা, শৃঙ্খলা, সহমর্মিতা, সুস্বাস্থ্য এবং জীবনের প্রতি ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গিও গড়ে তোলা জরুরি। এই মূল্যবোধের ভিত্তি তৈরি হয় পরিবারে, আর বিদ্যালয় সেই ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী ও পরিপূর্ণ করে তোলে। অভিভাবক ও শিক্ষক-শিক্ষিকারা যখন পারস্পরিক বিশ্বাস ও অভিন্ন লক্ষ্য নিয়ে একসঙ্গে কাজ করেন, তখনই প্রতিটি শিশু আত্মবিশ্বাসী, দায়িত্বশীল ও মানবিক নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার সর্বোত্তম পরিবেশ পায়।”

বিদ্যালয়ের সিইও এস. কে. সিং বলেন, “আমাদের ছাত্রছাত্রীদের অসাধারণ শিক্ষাগত ফলাফল এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য বিদ্যালয়ের উৎকর্ষ, সৃজনশীলতা এবং সার্বিক শিক্ষার প্রতি আমাদের অটল প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন। এই বিদ্যালয়ে আমরা এমন একটি অনুপ্রেরণাদায়ক ও সহায়ক পরিবেশ গড়ে তুলতে সচেষ্ট, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী নিজের সম্ভাবনাকে আবিষ্কার করতে পারে, জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতাগুলি অর্জন করতে পারে এবং জ্ঞান, চরিত্র ও উদ্ভাবনী চিন্তার ভিত্তিতে ভবিষ্যতের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে পারে। আমাদের প্রকৃত সাফল্য শুধু মেধাবী ছাত্রছাত্রী তৈরি করা নয়, আগামী দিনের দায়িত্বশীল নাগরিক গড়ে তোলা।”

বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয় শিক্ষাক্ষেত্রে উৎকর্ষ, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং মূল্যবোধভিত্তিক চরিত্র গঠনের প্রতি পুনর্নবীকৃত অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে। এর মাধ্যমে এম.পি. বিড়লা ফাউন্ডেশন হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল আবারও ভবিষ্যৎ-প্রস্তুত, জ্ঞানসমৃদ্ধ, মূল্যবোধসম্পন্ন এবং নেতৃত্বদানে সক্ষম নাগরিক গড়ে তোলার লক্ষ্যে তাদের দৃঢ় প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *