বাঙালির ইতিহাস ও বহিরাগত তত্ত্ব

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায়: প্রতাপাদিত্য বাংলার বারো ভূঁইয়াদের একজন হিসেবে খ্যাতির শীর্ষে, আকবর বাংলা দখলের শেষ চেষ্টায় পাঠান সেনাপতি আজিম খাঁকে । আজিম খাঁ কলকাতায় শিবিরে ফেলেন। গুপ্তচর মারফত খবর পেয়ে প্রতাপাদিত্য রাতের অন্ধকারে কলকাতার শিবিরের থাকা ২০ হাজার মোঘল সেনাকে মারের ফেলেন। ব্যথিত, অপমানিত সম্রাট আকবর এবার ২২ জন সেরা সেনাপতির নিয়ন্ত্রণের বিশাল সেনা পাঠান পূর্ববঙ্গে । প্রতাপাদিত্যের কাছে দূত পাঠানো হলো আত্মসমর্পণের জন্য।

আকবর সেনাপতি আজিম খাঁ পরাজিত হন প্রতাপাদিত্যের কাছে।

প্রতাপাদিত্য রাজি হলেন না। বেছে নিলেন যুদ্ধ। এবার আর্ট তিনি গেরিলা যুদ্ধ নয়, ছোট্ট ছোট্ট সেনাবাহিনী দিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিলেন। কিন্তু মোঘল সেনারা এবার যুদ্ধজয়ের প্রতিজ্ঞার নিয়েই এসেছিল। দিকে দিকে প্রতাপাদিত্যের সেনারার পরাজিত হতে লাগল। মোঘল সেনাদের আত্মবিশ্বাস তখন তুঙ্গে। এটাই পরিকল্পনা ছিল প্রতাপাদিত্যের। ছোট ছোট যুদ্ধ করে তিনি সময় ব্যয় করতে চাইছিলেন। অপেক্ষা করছিলেন বর্ষার জন্য। বর্ষায় হলো বন্যা। একদিকে সরীসৃপের উৎপাতে, মশার উৎপাতে, সংক্রামক রোগ, পানীয় জলের অভাব।দিশেহারার মোঘল সেনা।

পর্তুগিজ সেনাপতি রডা প্রতাপাদিত্যের পক্ষে মোঘল সেনার বিরুদ্ধে লড়ে জয়ী হন।

এবার আবার গেরিলা কায়দায় আক্রমণ শুরুতে করলেন প্রতাপাদিত্য। সঙ্গী হিসেবে পেলেন বন্ধু শঙ্কর ও পর্তুগিজ মিত্র সেনানায়ক রডা। কয়েকদিন ধরে চলল বসিরহাটের ইছামতীর অপর পারে যুদ্ধ এলাকার নাম হয়ত গেল সংগ্রামপুর। শেষপর্যন্ত প্রতাপের হাতে আত্মসমর্পণ করল মোঘল সেনা। (চলবে)

পরবর্তী পর্ব , রবিবার ১৪ জুন,২০২৬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *