শিরোনাম

বাঙালির ইতিহাস ও বহিরাগত তত্ত্ব

*

রাজা লক্ষ্মণমাণিক্য: মেঘনার

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায় : ঐতিহাসিক সূত্র বলছে ভুলুয়ার রাজবংশ ক্ষত্রিয়জাত হলেও কায়স্থ হিসেবে পরিচিত হন লক্ষণমানিক্য। অনেকক্ষেত্রেই মোঘল শাসক আকবর ও জাহাঙ্গীরy বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করলেও নিজেদের মধ্যে সবার মধ্যে মৈত্রী ছিল না। যেমন চন্দ্রদ্বীপের ( বরিশাল) -এর রাজা রামচন্দ্র বসুর সঙ্গে বনিবনা ছিল না ভুলুয়ার লক্ষণমানিক্যের। সন্দ্বীপ ও হাতিয়া নামে দুটি অঞ্চলের অধিকার নিয়ে যে বৈরিতা ছিল তার চেয়েও বেশি বৈরিতা চরমে গিয়ে পৌঁছায় এক ব্রাহ্মণ পণ্ডিতকে নিয়ে। সেই ব্রাহ্মণের নাম দ্বিগিজয়নাথ।

চন্দ্রদ্বীপের রাজা কন্দর্পনারায়ণ রায়।

দ্বিগিজয় ছিলেন ভুলুয়ার রাজ পুরোহিত। একবার তিনি চন্দ্রদ্বীপের শিকারপুর অঙ্কলের এক মন্দিরে পুত্রসহ পূজিত দিতে আসেন। চন্দ্রদ্বীপ অর্থাৎ বরিশালের রাজা কন্দর্প রায় দ্বিগিজয় পণ্ডিতের শিষ্যত্ব গ্রহণ করে ব্রাহ্মণকে অনুরোধ করেন তাঁর অধীনস্থ এলাকা বাবুগঞ্জের বানপুরায় বসতি স্থাপন করতে। রাজার অনুরোধে ব্রাহ্মণ দ্বিগিজয় থেকে যান। খবরটা যখন ভুলুয়া অর্থাৎ নোয়াখালির রাজার কাছে পৌঁছাল তখন ক্রোধ আর অপমানের জ্বালায় জ্বলতে শুরু করেন লক্ষণমানিক্য। তাঁর পিতার নাম ছিল কেশব দৈবজ্ঞ। তিনি ছিলেন বিখ্যাত পণ্ডিত ।

বাংলায় পর্তুগিজ সেনা।

কন্দর্পনারায়ণের মৃত্যুর পর রাজা হন পুত্র রামচন্দ্র রায়। লক্ষণমানিক্য চন্দ্রদ্বীপ আক্রমণ করে পুত্রসহ গুরুকে নিজের রাজ্যে নিয়ে যান। ইতিহাসে যা ভূলুয়ার লুঠ নামে পরিচিত। চন্দ্র দ্বীপের রাজা রামচন্দ্রের শরীরেও তখন তারুণ্যের রক্ত। তিনি দূত মারফত চিঠি পাঠিয়ে ব্রাহ্মণ পণ্ডিতকে ফেরত দিতে বলেন m স্বাভাবিকভাবেই সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন ভুলুয়ার রাজা লক্ষণমানিক্য। ফলে যুদ্ধই ছিল ভবিতব্য। রামচন্দ্র সেনাপতি রঘুনন্দ ফৌজ দারের নেতৃত্বে একদল বাঙালি পর্তুগিজ ও বকসারি সেনা নিয়ে লক্ষণমানিক্যের ভুলুয়া রাজ্যের কাছাকাছি পৌঁছে শিবির স্থাপন করেন। (চলবে)

পরবর্তী পর্ব আগামী রবিবার ২৪ মে,২০২৬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *