পর্ব :২৩৩

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায়: বাংলায় তন্ত্রমন্ত্রের প্রবল প্রভাবে তান্ত্রিক সাধনায় কুৎসিত আচার অনুষ্ঠানে বিকৃতি ঘটতে থাকে চৈতন্য ভাগবৎ রচয়িতা বৃন্দাবন দাস ( ১৫০৭ জন্ম) লিখেছেন,, রাত্রি করি মন্ত্র পড়ি পঞ্চকন্যা আনে।,,,,,,,,, ভক্ষ্য ভোজ্য গন্ধমাল্য বিবিধ বসন। খাইয়া করে সবা সঙ্গে বিবিধ রমণ।। একই ধরণের নারী লিপ্সার রচনা করেছেন মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালংকার তাঁর প্রবোধচন্দ্রিকা কাব্যে।

তন্ত্র শুধু শাক্ত মতে নির্দিষ্ট নয়। বৈষ্ণব ও শৈব মতেও তন্ত্র আছে। চৈতন্য পূর্বযুগের চণ্ডীদাসের নামাঙ্কিত শ্রীকৃষ্ণকীর্তন সম্বন্ধে বৈষ্ণব সাহিত্যে পারদর্শী ড: বিমানবিহারী মজুমদার মন্তব্য করেছেন,( ষোড়শ শতাব্দীর পদাবলী সাহিত্য পৃষ্ঠা: ২৮৪) ” আদিরসের ছড়াছড়ি থাকায় বি কাব্যখানি প্রায় পর্ণোগ্রাফি পর্যায়ে পড়িয়াছে। তাঁর মতে, এই কাব্যের কৃষ্ণ কামুক। এই কৃষ্ণ রাধাকে বি বারবার বলছেন যে তাঁর দেহসম্ভোগের জন্যই ( তোর রতি আশে) তিনি ( কৃষ্ণ) পৃথিবীতে অবতীর্ণ হয়েছেন।( ২৬৪-২৬৫ পৃষ্ঠা)।
এর থেকেই মনে করা যেতে পারে , শ্রীকৃষ্ণকীর্তনে’র কবি সমকালীন সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি এবং নরনারীর যৌন জীবনের দ্বারা প্রভাবিত হয়েই না কৃষ্ণকে এইভাবে চিহ্নিত করেছেন। (চলবে)
